“সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার” এই শিরোনামকে সামনে রেখে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাবের উদ্দেশ্যে জাতীয় সংসদ ভবনে পৌঁছেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) দুপুরের দিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার জন্য ব্রিফকেস হাতে নিয়ে সংসদ ভবনে পৌঁছান তিনি। বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী।
এটি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট অধিবেশন। দেশের ৫৩তম, ছয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের ২৬তম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর প্রথম বাজেট।
এদিকে প্রতিবছরই বাজেট পেশ করতে একটি ব্রিফকেস নিয়ে সংসদে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী বদলালেও রয়ে যায় এই ব্রিফকেস রীতি। কেন এই ব্রিফকেস, কীভাবে এলো এই ব্রিফকেস রীতি, কী কী থাকে এই ব্রিফকেসে, এসব নিয়ে কৌতূহলের যেন শেষ নেই।
ব্রিফকেসের যাত্রাটা শুরু হয় উনিশ শতকে যুক্তরাজ্যে। ১৮৬০ সালে ব্রিটেনের বাজেটপ্রধান উইলিয়াম ই গ্ল্যাডস্টোন লাল একটি স্যুটকেসে করে বাজেট-সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারের আমলেই এই ব্রিফকেস ব্যবহার হয়।
‘বাজেট’ শব্দটি এসেছে ফরাসি শব্দ ‘ব্যুজেট (বোগেট)’ থেকে। ব্যুজেটের অর্থ হলো, থলে বা ব্যাগ। আগের সময়ে থলেতে ভরে দেশের আয়-ব্যয়ের হিসাব আইনসভা বা সংসদে আনা হতো বলে একে ‘বাজেট’ নামে অভিহিত করা হয়।
অর্থমন্ত্রীদের এই ব্রিফকেস বহনের রীতি কবে থেকে শুরু হয়েছিল?
এ বিষয়ে লেখা আছে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা আকবর আলি খানের সর্বশেষ বই ‘বাংলাদেশে বাজেট: অর্থনীতি ও রাজনীতি’–তে। এতে বলা হয়েছে, শিল্পবিপ্লবের পর ইংল্যান্ডের অর্থনীতি অনেক বড় হয়ে যায়। বাজেটবিষয়ক প্রস্তাবগুলো শুধু একটা মানিব্যাগে সংকুলান করা সম্ভব হচ্ছিল না। মানিব্যাগের জায়গায় তাই আসে ব্রিফকেস।
বইটিতে বাজেট প্রস্তাবের দিন ব্রিফকেস ব্যবহারের আরেকটি কারণ উল্লেখ করা হয়। সেটি হচ্ছে, বাজেটে কোন কর বাড়বে বা কোন কর কমবে, তার গোপনীয়তা বজায় রাখা অপরিহার্য। ব্রিফকেসের ভেতরে থাকা বাজেটের কোনো তথ্য জেনে ব্যবসায়ীরা রাতারাতি তার ব্যবহার করতে পারেন না। তাই প্রস্তাবগুলো গোপন রাখার স্বার্থে ব্রিফকেসে করে আনা হয়।
জানা যায়, বাজেটে ব্রিফকেসের এই রীতি শুরু হয় ১৮ দশক থেকে। প্রথম শুরু হয় যুক্তরাজ্যে থেকে। বাজেটপ্রধানকে এ ব্রিফকেস খুলে বাজেট পেশ করতে বলা হতো।
১৮৬০ সালে ব্রিটেনের বাজেটপ্রধান উইলিয়াম ই গ্ল্যাডস্টোন লাল একটি স্যুটকেসে করে বাজেটসংক্রান্ত নথি নিয়ে আসেন। সেই স্যুটকেসের ওপর স্বর্ণ দিয়ে রানির মুখের আদলের ছাপ দেওয়া ছিল। ওই একই ব্যাগ বহু সরকারের আমলেই ব্যবহার করা হয়।
প্রথা অনুযায়ী “লাল ব্রিফকেস” হাতে বাজেট পেশ করতে সংসদে ঢোকেন অর্থ বিভাগের প্রধান। তবে এই রহস্যময় ব্রিফকেসের রং সব সময় লাল ছিল না, অনেক সময়ই তা বদলেছে। তবে রং যা-ই হোক না কেন, এই ব্রিফকেসকে বাজেটের প্রতীক ধরা হয়।