সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ ও সেবাগ্রহীতা বাড়ছে

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা দুটোই বেড়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। আগামী অর্থবছরে এ খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৯ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা বেশি। এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, মা ও শিশু বিভাগে সেবাগ্রহীতার সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী উপস্থাপিত ২০২৪-২৫ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে এসব তথ্য জানানো হয়।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৫৬৭ জনকে গভর্নমেন্ট টু পারসন পদ্ধতিতে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দেশব্যাপী প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ সম্পন্ন হয়েছে।’

আগামী অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতাপ্রাপ্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৪ হাজার বাড়ানো হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ভাতাপ্রাপ্তের সংখ্যা বর্তমান ২৯ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩২ লাখ ৩৪ হাজার জনে উন্নীত করা হবে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চমাধ্যমিক স্তরের উপবৃত্তির হার বিদ্যমান ৯৫০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০ টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সারা দেশে মা ও শিশুদের সহায়তা কার্যক্রমে আগামী অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ৪৮০ জন করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর আওতায় ভাতা ৯৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০ টাকা করা হবে।

আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, সরকার প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বিশেষভাবে নজর দিচ্ছে। তাই আগামী অর্থবছরে ভাতাপ্রাপ্ত প্রবীণের সংখ্যা দুই লাখ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া ভাতাপ্রাপ্ত প্রবীণের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ লাখ ১ হাজার জনে উন্নীত করা হবে এবং প্রবীণদের জন্য মাসিক ৬০০ টাকা হারে ৪ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভাতাপ্রাপ্ত বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীর সংখ্যা বিদ্যমান ২৫ লাখ ৭৫ হাজার জন থেকে বাড়িয়ে ২৭ লাখ ৭৫ হাজার জনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এ বাবদ ১ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

বাজেটে আগামী অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষায় হিজড়াদের সংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৬ হাজার ৮৮০ জনকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে ১২ হাজার ৬২৯ জনকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া বেদে জনগোষ্ঠীর জন্য ভাতা প্রদান কার্যক্রম চলমান থাকবে। আগামী অর্থবছরে সমাজের অনগ্রসর অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ৯০ হাজার ৮৩২ জনকে ভাতার আওতায় আনা হবে।