স্তর ভেঙে ব্যাংকের টাকায় আবগারি শুল্ক বাড়ল

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংকে রাখা টাকার ওপর আবগারি শুল্কের স্তর ও হারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে ছয়টি স্তরে শুল্ক নেওয়া হলেও প্রস্তাবিত বাজেটে এ স্তর হচ্ছে আটটি। যেখানে গ্রাহকের আমানত ১০ লাখ টাকার বেশি হলে বাড়তি অর্থ দিতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এই ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একসিসেস অ্যান্ড সল্ট অ্যাক্ট’ ১৯৪৪-এর আওতায় বর্তমানে বিমান টিকিট ও ব্যাংক হিসাবের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপিত রয়েছে। বিমান টিকিটের ওপর আরোপিত আবগারি শুল্ক অপরিবর্তিত রেখে ব্যাংক হিসাবের সø্যাবগুলো এবং আবগারি শুল্কের পরিমাণ যৌক্তিকীকরণের প্রস্তাব করছি।

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুসারে, বর্তমানে ১০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকার যে স্তর রয়েছে, সেটি ভেঙে দুটি স্তর করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত গচ্ছিত টাকায় আগের মতোই ৩ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হবে। আর ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতে ৩ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক বসেছে।

এ ছাড়া ১ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদ্যমান স্তরটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা এবং ২ কোটি থেকে ৫ কোটি পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা শুল্ক বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বের সø্যাবের আবগারি শুল্ক অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

এদিকে অফসোর ব্যাংকিং আইন, ২০২৪-এর অধীনে পরিচালিত অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের আওতাধীন আমানতকারী বা বৈদেশিক ঋণদাতাদের হিসাবের ওপর আরোপিত আবগারি শুল্ক অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়।

প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কোনো ব্যাংক হিসাবে আমানতের পরিমাণ যদি একবার এক লাখ টাকা বা তার ওপরের স্তরগুলোর সীমা অন্তত একবার স্পর্শ করে, তাহলে নির্দিষ্ট হারে আবগারি শুল্ক দিতে হয়। একাধিকবার স্পর্শ করলেও একবারই আবগারি শুল্ক কাটা হয়।