সাতক্ষীরায় সালিশে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা চেয়ারম্যানের

সাতক্ষীরার দেবহাটায় সালিশ বৈঠক চলাকালে প্রকাশ্য জনসমক্ষে বাবর আলী গাজী (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে লাঠিপেটা করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন সখীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম। চেয়ারম্যানের লাঠিপেটায় আহত বাবর আলী উপজেলার কাজীমহল্যা গ্রামের মৃত মহিম গাজীর ছেলে।

গত বুধবার দুপুরে সখীপুর ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যেই সালিশ বৈঠক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে সালিশ প- হয়ে গেলে গুরুতর অবস্থায় বাবর আলীকে বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা। পরে বুকে ব্যথা দেখা দিলে তাকে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের চিহ্ন রয়েছে এবং বুকে তীব্র ব্যথা, এমনকি কথা বলতেও তীব্র কষ্ট অনুভব করছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস।

বাবর আলীর পরিবার জানায়, তিন-চার দিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবর আলী গাজীর বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর করেন প্রতিবেশী সিরাজুলের বখাটে ছেলে মাসুম বিল্লাহ (১৯)। এ নিয়ে সখীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বাবর আলী।

বাবর আলীকে মারধরের সত্যতা স্বীকার করে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সালিশ নিয়ে বাদী বাবর আলী বাজে মন্তব্য করেছিলেন, তাই তাকে লাঠি দিয়ে মারা হয়েছে। তার বুকে-পিঠে নয়, হাত লক্ষ্য করে কয়েকটি লাঠির বাড়ি দিয়েছিলাম।’

দেবহাটা থানার ওসি সেখ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘সালিশে মারধরের বিষয়টি শুনেছি, তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গ্রাম্য আদালতে বিচার চাইতে এসে সেবাপ্রার্থী মারধরের শিকার হলে তিনি আইনের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা হারাবেন। তাছাড়া সালিশ বৈঠক চলাকালে জনপ্রতিনিধি কোনোভাবেই আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না। এ ব্যাপারে অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’