তাড়াতাড়ি ডি-ডে অনুষ্ঠান ত্যাগ করে বিপাকে ঋষি সুনাক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নরম্যান্ডি উপকূলের লড়াইয়ে নিহতদের স্মরণে ফ্রান্সে কয়েকটি দেশের নেতাদের উপস্থিতিতে ডি-ডের ৮০তম বার্ষিকী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। নরম্যান্ডি উপকূলে ওমাহা সৈকতের লড়াইয়ে নিহতদের স্মরণে ফ্রান্সে কয়েকটি দেশের নেতাদের উপস্থিতিতে ডি-ডে বার্ষিকী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় ৬ জুন বৃহস্পতিবার।

ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো, জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ। কিন্তু এসব বিশ্ব নেতারা ফ্রান্সে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সমবেত হওয়ার আগেই সেখান থেকে চলে যান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। সেখান থেকে ফিরে সুনাক লন্ডনে চলে যান একটি টিভি সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য। 

ওই অনুষ্ঠান থেকে সুনাক চলে যাওয়াতে সেখানে উপস্থিত বিশ্ব নেতাদের অফিসিয়াল ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোকে ছবি তুলতে হয়েছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে।

যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী সুনাক আগাম নির্বাচন ডেকেছেন। এই সময়ে তার নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে রয়েছে এই ডি-ডে উদযাপন। সুনাক ফ্রান্সে গিয়ে অনুষ্ঠানে যোগও দিয়েছেন। কিন্তু অন্যান্য সব দায়িত্ব তিনি দিয়ে এসেছেন ক্যামেরনসহ অন্যান্য মন্ত্রীদের ওপর।

অনুষ্ঠান ছেড়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যাওয়ায় সুনাক তার বিরোধীদের এমনকী মিত্রদেরও সমালোচনার মুখে পড়েন। এরপরই সুনাক তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। বলেছেন, ফ্রান্সে তার আরও বেশি সময় না থাকাটা ভুল হয়েছে।

বামপন্থি ট্যাবলয়েড দ্য ডেইলি মিরর তাদের প্রথম পাতার শিরোনামে লিখেছে, “প্রধানমন্ত্রী ডি-ডেকে ছুড়ে ফেলেছেন।” মধ্যপন্থি লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা বলেছে, সুনাক তাদেরকে পরিত্যাগ করেছেন যারা নরম্যান্ডিতে রক্তক্ষয়ী লড়াই লড়েছিল।

বিরোধীদল লেবার পার্টি একে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সুনাকের কর্তব্যে অবহেলা বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে স্কটিশ অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সুনাকের ডি-ডে অনুষ্ঠান আগেভাগে ত্যাগ করাটা প্রবীণ সেনাদের জন্য ‘অসম্মানজনক’।