স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য টেকসই ট্যুরিজম অপরিহার্য

বাংলাদেশে পর্যটক আকর্ষণ করার মতো যথেষ্ট উপাদান থাকলেও পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে। পর্যটনশিল্পে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করতে একটি টেকসই নীতিমালা প্রয়োজন। টেকসই ট্যুরিজম নিশ্চিত করা গেলে দেশের পর্যটনশিল্প কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস হতে পারে। গতকাল শনিবার এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

বায়ুম-লীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এবং স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মার্কেটিং ডিসিপ্লিনের আয়োজনে ‘টেকসই স্মার্ট পর্যটন গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, পর্যটন হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল, অতি বৈচিত্র্যময় এবং শ্রমঘন একটি শিল্প, যা দেশের বিভিন্ন সেক্টরে হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন,‘ অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ, ট্যুরিজম বিহেভিয়ারের জায়গায় কাজ করতে হবে। পাবলিক ও প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে একটি টেকসই ট্যুরিজম নিশ্চিত করা যেতে পারে।’

সভাপতির বক্তব্যে ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষা পায় এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য (ইকোলজিক্যাল ব্যালান্স) ও মানুষের আর্থসামাজিক সাম্য বজায় থাকে, তাই টেকসই উন্নয়ন। বাংলাদেশে পর্যটনের যাত্রা অনেক আগে শুরু হলেও নানা প্রতিকূল অবস্থা পেরিয়ে আজকে আশার আলো ছড়াচ্ছে।’

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাভেদ আহমেদ মূল প্রবন্ধে বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ বা লোকাল ট্যুরিজমের বাজারটা সুন্দর করতে হবে, তাতে সময় দিতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশে টেকসই ট্যুরিজম আশা করতে পারব।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে আলোচনা করেন এটুআইয়ের উপসচিব এবং জাতীয় পোর্টাল বাস্তবায়ন বিশেষজ্ঞ মো. শামসুজ্জামান, শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. তারিকুল ইসলাম সেইভ আওয়ার সির সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মাহমুদা পারভীন প্রমুখ।