যা পেয়েছি তা স্বচ্ছতার কারণে

টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ খাইরুল আলম টুটল চৌধুরী। তবে তাকে সবাই টুটুল চৌধুরী নামেই চেনেন। পাঁচ শতাধিকেরও বেশি নাটকে অভিনয় করা এই অভিনেতা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। ক্যারিয়ার ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর।

সহকারী পরিচালক থেকে পরিচালক

আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আছি প্রায় ২৫ বছর ধরে। এর আগে অগ্রণী ব্যাংক এবং আরও কিছু ব্যাংকে কাজ করেছিলাম। কিন্তু আমার শৈশবকাল থেকেই মতিঝিল এলাকায় থাকার খুব ইচ্ছা ছিল। খুব চেয়েছিলাম এখানে যেন কিছু একটা হয়। আর বাংলাদেশ ব্যাংক যেহেতু সব ব্যাংকের মাদার ব্যাংক, সবাই চায় এখানে কাজ করতে, আমিও চেয়েছিলাম। আর সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, এই ব্যাংক শিল্পীদের অনেক সহযোগিতা করে। যার কারণে আমি এখানে কাজের পাশাপাশি অভিনয়টাও চালিয়ে যেতে পারছি। এখানে সহকারী পরিচালক পদে যোগ দিয়েছিলাম। উপপরিচালক, যুগ্ম পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক থেকে এখন পদোন্নতি পেয়ে পরিচালক হলাম। সবার কাছ থেকে শুভেচ্ছা পাচ্ছি, ভালোই লাগছে।

তরুণ ব্যাংকারদের জন্য পরামর্শ

আমি যেটা সব সময় বিশ্বাস করি সেটা হচ্ছে, কাজের প্রতি মনোযোগ আর নীতিতে ঠিক থাকা, স্বচ্ছ থাকা। এ বিষয়গুলো মেনে চলতে পারলে যে কারও পক্ষেই ভালো কিছু করা কিংবা ভালো অবস্থানে যাওয়া সম্ভব।

চাকরি এবং অভিনয় সমন্বয়

এই দুটো একই সঙ্গে সমন্বয় করা বেশ কঠিন। চাকরি করলেও আমার কিন্তু অভিনয়ের প্রতি শুরু থেকেই অন্যরকম ভালো লাগা ছিল। অভিনয়ের প্রতি আমি সব সময়ই প্যাশনেট। আমি সব সময় স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করি। এই দুটো একসঙ্গে মানিয়ে চলতে পারছি তার কারণ স্বচ্ছতা। কখনো ছলচাতুরী করিনি এবং করতে পছন্দও করি না। আমার মনে হয়, দুই জায়গাতেই আমি যা পেয়েছি তা এই স্বচ্ছতার কারণে। যখন অফিস করি সেটাও স্বচ্ছতা, নীতির সঙ্গে এমনকি অভিনয় করলে সেটাও ঠিক তাই। কখনো ছল বিষয়টা করিনি যে আজ শুটিং করব না বা আজ অফিস করব না। যদি শুটিং থাকে তাহলে অফিসে জানাই যে আমার এটা করতে হবে এবং অফিস থাকলে পরিচালককে জানাই যে অফিস আছে, সময় বের করে করতে হবে। যেহেতু অভিনয়টাকে ভালোবাসি এবং ব্যাংকে কাজ করতেও, তাই কিছুটা কষ্ট হলেও দুটোই মেইনটেইন করছি। এর জন্য ব্যাংক এবং মিডিয়া দুই মাধ্যমেই কলিগরা আমাকে যথেষ্ট সাপোর্ট করেছেন। তাদের কাছে সব সময় কৃতজ্ঞতা জানাই।

পদের কারণে সুযোগ-সুবিধা চাওয়া

এটা সব জায়গাতেই হয়। কেউ একটা পজিশন হোল্ড করলে তার আশপাশের মানুষজন কিংবা বন্ধুবান্ধব তার কাছে সুযোগ-সুবিধা চায়। আমার স্ত্রী একজন পুলিশ কর্মকর্তা, তার কাছেও অনেকেই সুবিধা নিতে চায় এমনকি আমার কাছেও। কিন্তু আমি এটাকে খারাপভাবে দেখি না। আমি নৈতিকতা দেখি। নিয়মনীতি ঠিক রেখে সুযোগ থাকলে আমি অবশ্যই সেটা চেষ্টা করি। কিন্তু অনৈতিকভাবে কখনোই নয়।

সাম্প্রতিক অভিনয় ব্যস্ততা

বকুলপুর, প্রবাসী পরিবার, জাদুনগরসহ কিছু ধারাবাহিকে কাজ করছি। এ ছাড়া ‘কানামাছি’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।