ঘুমন্ত স্ত্রী-সন্তানের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের মুনিরকান্দি গ্রামে ঘুমন্ত স্ত্রী ও সন্তানের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়েছেন স্বামী ওসমান শেখ। এ ঘটনার ৬ দিন পরে দগ্ধ স্ত্রী হেলেনা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে।

আজ সোমবার (১০ জুন) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হেলেনা আক্তারের দগ্ধ ছেলে অন্তর (১১) অবস্থাও আশাঙ্কাজনক।  সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে।

গত ৫ জুন বুধবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাদেরকে। এর আগে ৪ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তাদের গায়ে আগুন দেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগী হেলেনার ভাই ইমরান হোসেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে রাজৈর হাসপাতালে এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ করেন।

জানা যায়, ওমসান শেখ তার শ্বশুরবাড়ি মুনিরকান্দি গ্রামে অবস্থানরত ঘুমন্ত স্ত্রী হেলেনা (৩৬) ও তাদের সন্তান অন্তর (১১) এর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। ওসমানের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মোচনা ইউনিয়নের ডুমরিয়া গ্রামে। ওসমান মাদকাসক্ত থাকায় পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহে কারণে হেলেনা বেগম সন্তান অন্তরকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ছিলেন। এই বিরোধে জেরে ওসমান গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের গায়ে পেট্রল ছুড়ে আগুন লাগিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার চেষ্ঠা করে।

হেলেনার ভাই ইমরান জানান, আমার বোন হেলেনাকে মোচনা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের আওলাদ শেখের ছেলে ওসমান শেখের সাথে ১৪ বছর আগে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকে সে আমার বোনকে বিভিন্ন সময় মারধর করে। স্বামী নেশাগ্রস্ত হওয়ায় আমার বোন আমাদের বাড়ি গোহালা ইউনিয়নের মনিরকান্দি গ্রামে থাকে। মঙ্গলবার রাতে ছেলেকে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন হেলেনা। রাত ১টার দিকে হেলেনার স্বামী প্রথমে জানালা দিয়ে তাদের ওপর পেট্রোল ছুড়ে মারেন। এরপর আগুন দিয়ে পালিয়ে যান। এ সময় তাদের চিৎকারে সবাই এগিয়ে যান। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান, স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ হেলেনা আক্তার ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্ত করা হবে। এই ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। আগুন দেয়ার ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আসামি ওসমান শেখকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।