পাহাড়ে দুঃসাহসিক সাইক্লিং প্রতিযোগিতায় সাইক্লিস্টদের স্বীকৃতি দানকারী বিশ্বজনীন স্বীকৃত সংস্থা 'এভারেস্টিং'-এ বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায় করেছেন জাতীয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতায় স্বর্ণজয়ী রাকিবুল ইসলাম।
মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতার অর্ধেক ৪,৪২৪ মিটার সাইক্লিং করে আরোহণ করতে পারলে এভারেস্ট বেইজ ক্যাম্প ব্যাজ মিলে। গত রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খাগড়াছড়ির আলুটিলার 'তারেং' পাহাড়ে (সমতল থেকে চূড়া পর্যন্ত) প্রায় ১০ ঘণ্টা ৪২ মিনিট সময় নিয়ে একই পথে মোট ১৮ বার ওঠা-নামা করেছেন রাকিবুল। এই ওঠানামার সময় তিনি অতিক্রম করেছেন মোট ৪ হাজার ৮৩২ মিটার উচ্চতা। এতে পথ অতিক্রম করতে হয়েছে মোট ১৪৫ কিলোমিটার।
রাকিবুলের এই প্রচেষ্টার জন্য সব তথ্য-উপাত্ত এভারেস্টিং কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছিল। বুধবার এভারেস্টিং কর্তৃপক্ষ তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে এই রেকর্ডের স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের 'হল অব ফেমে' রাকিবুলের পাশে লেখা হয়েছে বাংলাদেশ নাম।
স্বীকৃতি আসার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এখানে আমার ব্যক্তিগত প্রাপ্তি বলতে তেমন কিছু নেই। এই হল অফ ফেমে বাংলাদেশ ছিল না। বাংলাদেশের নাম লেখাতে চেয়েছি। দেশের নাম লেখাতে পেরেছি এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
রংপুরের ছেলে রাকিবুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসীতে স্নাতকোত্তর করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই তার সাইক্লিংয়ে হাতেখড়ি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা শেষ করে রাজধানীর একটি শীর্ষ হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট হিসেবে চাকুরি শুরু করেন। সাইক্লিং নেশার জন্য সেই চাকরি ছেড়ে দেন। সাইক্লিং ফেডারেশন আয়োজিত জাতীয় সাইক্লিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। দেশের বাইরেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন একাধিকবার, গিনেস বুকেও নাম লিখিয়েছেন। ফার্মাসিস্ট রাকিবুল এখন সাইক্লিং শেখানো ও ফিটনেস ট্রেইনার হয়েই জীবিকা নির্বাহ করছেন। এতে বেশ খুশিও তিনি,‘সাইক্লিং ফেডারেশন ও সরকার থেকে আমি কোনো ভাতা বা সহায়তা পাই না। সেটা প্রত্যাশাও করি না। এই উচ্চতার রেকর্ড গড়েছি নিজের প্রচেষ্টায়। সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে হলে নাগরিকদের সুস্থ এবং কর্মক্ষম থাকতে হবে। এজন্য সাইক্লিং ও শরীর ঠিক রাখা প্রয়োজন। এগুলো শিখিয়ে মর্যাদার সঙ্গে আয় করছি এতে সন্তুষ্ট। আবার সামাজিক দায়বদ্ধতায় অনেককে ফ্রিও শেখাই।’