বুকের মধ্যে আগুন থেকে গোলাম মামুন

অভিযোগের আঙুল তোলার সুযোগ রাখেননি কেউ

তেইশ বছরের ক্যারিয়ারে বহু ঘরানায় কাজ করেছেন এই সময়ের তুমুল আলোচিত ও জনপ্রিয় নির্মাতা শিহাব শাহীন। টেলিভিশনের পর ওটিটিতেও দেখিয়েছেন নিজের মুনশিয়ানা। আজ মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন সিরিজ ‘গোলাম মামুন’। সিরিজ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর

‘বুকের মধ্যে আগুন’ সিরিজটি গেল বছরের আলোচিত সিরিজ। আলোচিত বলেই এর স্পিন অফ নির্মিত হয়েছে। অন্য আরেকজন নির্মাতার সিরিজ থেকে স্পিন অফ নির্মাণ করা আপনার জন্য কতটুকু চ্যালেঞ্জের ছিল?

হ্যাঁ, এটা ঠিক। গত বছরে এই প্লাটফর্ম থেকে এই সিরিজটিই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিল, যার কারণে তারা এটার স্পিন অফ নির্মাণ করতে চেয়েছে। ওটা অংশুর দারুণ নির্মাণ এবং ‘গোলাম মামুন’ চরিত্রটি তানিমের চমৎকার একটি সৃষ্টি। যেহেতু সিরিজটি অনেক পপুলার ছিল তাই হইচই আমাকে ‘গোলাম মামুন’ চরিত্রটি নিয়ে স্পিন অফ করার প্রস্তাব দেয়। প্রথমে আমি দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম যেহেতু এটা আরেকজন নির্মাতার সৃষ্টি ছিল। পরে হইচই বেশ কয়েকবার অনুরোধ করে, অনেকটা জোর করেই আমাকে রাজি করায়। পরে আমি তানিমের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলি। তানিম যখন সম্মতি দেয় তখনই কাজটি শুরু করি। ‘গোলাম মামুন’ কোনোভাবেই ‘বুকের মধ্যে আগুন’-এর সিক্যুয়েল বা সিজন-২ নয়। ওখান থেকে শুধুমাত্র একটি চরিত্র নিয়েছি। এটা একদমই নতুন একটি সিরিজ, নতুন একটি গল্প। যেমনটা ‘সিন্ডিকেট’ থেকে ‘মাইসেলফ অ্যালেন স্বপন’ হয়েছিল। ‘মাইসেলফ অ্যালেন স্বপন’ নিজেই একটি সিরিজ বা ফ্র্যাঞ্চাইজি। ‘গোলাম মামুন’ও ঠিক তাই। দর্শক তো সবসময়ই আগের কাজের সঙ্গে একটা কানেকশন খুঁজতেই চায়।

স্পিন অফ সিরিজটি নির্মাণ করতে গিয়ে আপনার প্রতিবন্ধকতা কী ছিল বলে মনে হয়েছে?

প্রতিবন্ধকতা বলতে তো লজিস্টিক সাপোর্ট এবং বাজেট স্বল্পতা, যেটা সবসময়ই হয়ে থাকে। সব গল্প সবসময় মনের মতো করে বলা যায় না। তারপরেও সাধ্যের মধ্যে চেষ্টা করি সর্বোচ্চটা দিয়ে দর্শকদের জন্য একটা ভালো কনটেন্ট উপহার দিতে। সিরিজটা করার সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল আবহাওয়া। আমরা যখন এটার শুটিং করি তখন হিট ওয়েভ চলছিল। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে শুটিং করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। আমাদের চেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে অভিনয়শিল্পীদের, কারণ তাদের লাইটের সামনে অভিনয় করতে হয়েছে।

সিরিজটির অভিনয়শিল্পীরা আপনার প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছে?

প্রত্যেক শিল্পীই দারুণভাবে প্রত্যাশা পূরণ করেছে। কারও প্রতি অভিযোগের আঙুল তোলার সুযোগ রাখেনি কেউ। বিশেষ করে যদি অপূর্বর কথা বলি, সে তার দুইশ ভাগ এফোর্ট দিয়ে কাজটি করেছে। ট্রেনিং, রিহার্সেল এবং পুরো কাজটির পেছনে যে পরিমাণ সময় দিয়েছে, খেটেছে সেটা অভাবনীয়। লুক পরিবর্তন করেছে, তার প্রিয় চুল কেটে ফেলেছে; শুধুমাত্র কাজটির জন্য। চরিত্রটি ধারণ করতে দিনের পর দিন পরিশ্রম করেছে। শুটিং করতে গিয়ে আহত হয়েছে। চিকিৎসক তাকে এক সপ্তাহ বেড রেস্টে থাকতে বলেছে কিন্তু তিন ঘণ্টা পরেই সে আউটডোরে দৌড়াদৌড়ির দৃশ্যে শুটিং করতে নেমে গেছে। কমিটমেন্টের এক ফোঁটা পরিমাণ ঘাটতি পাইনি। সাবিলা নূরের ক্ষেত্রেও তাই। প্রায় প্রতিদিনই তার কলটাইম ছিল, প্রতিদিনই সে ঠিক সময়ে হাজির হয়ে যেত, চরিত্রটির জন্য পরিশ্রম করত। তাছাড়া ইমতিয়াজ বর্ষণের দৃশ্যগুলোও বেশ পরিশ্রমের ছিল। রোজা রেখে সে চেজিং সিনগুলো করত। পানির জন্য ছটফট করত, ক্লান্ত হলেও সেটা বুঝতে দিত না। অপু আমার এই প্রজেক্টে কাজ করার জন্য ভারতের কাজের শিডিউল পিছিয়ে দিয়েছে। তারপর শার্লিন ফারজানা অনেকদিন পর কাজে ফিরেছে। রিহার্সেলে অসম্ভব সময় দিয়েছে, খেটেছে। নাজমুস সাকিবকে যখনই চেয়েছি তখনই পেয়েছি। কখনো না করেনি। শিক্ষকতা থেকে ছুটি নিয়ে যথেষ্ট সময় দিয়েছে, পরিশ্রম করেছে। সিরাজও তাই। এখানে যারাই ছিল তাদের সবাই সাধ্যমতো তাদের প্রাণবন্ত সময়টা দিয়েছে, আমার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি দিয়েছে তারা।

দর্শকদের কাছে প্রত্যাশা কী?

দর্শকের কাছে প্রত্যাশা, তারা যেন ‘গোলাম মামুন’ দেখেন এবং তাদের ভালো লাগা, মন্দ লাগা আমাদের জানান। পাইরেসি থেকে বিরত থাকুন, সাবস্ক্রাইব করে দেখুন এবং অন্যদেরও পাইরেসি থেকে বিরত থাকতে বলুন। আর যারা ক্রিটিক আছেন কিংবা রিভিউ করেন তারা যেন স্পয়লার ফ্রি রিভিউ দেন। সর্বশেষ বলতে চাই, কাজটি করে আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে, আশা করছি দর্শকদের কাছেও ভালো লাগবে।