বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা লড়াই-সংগ্রাম করছি। ইতিমধ্যে আমাদের অনেক অর্জন হয়েছে। সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে, আন্দোলনে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে একমতে নিয়ে আসা। কারণ এসব দলগুলোর একেকজনের একেক চিন্তা। এদের কেউ বাম, কেউ ডান, কেউ অতি বাম চিন্তার জায়গা থেকে একমতে এসে আন্দোলন করছে। যে আন্দোলন আমরা শুরু করেছি, তা নিঃসন্দেহে খুব শিগগিরই আরও বেগবান হবে।’
গতকাল বুধবার দুপুরে সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র সংকট-উত্তরণের পথ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। ২০০৪ সালের ১৪ জুন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনগণ ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। মানুষ জেগে উঠেছে। আমরা হয়তো তাদের জেগে ওঠাকে কাজে লাগিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারিনি। তবে নতুন সূর্যোদয় হবেই, সেখানে অবশ্যই আমাদের পৌঁছাতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিরোধী রাজনৈতিক দলের ঐক্য “একাট্টা”। সব রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে কাজ করেছি। আমাদের ৩১ দফাতে এ দেশের প্রত্যেক মানুষের কথা বলা আছে, রাষ্ট্র কাঠামো, অর্থনীতি কাঠামো পরিবর্তনের কথা বলা আছে। জনগণ একটা জিনিসে স্থির, সেটা হচ্ছে, তারা এই সরকারকে চায় না। এটা হচ্ছে, মূল কথা। এটা আমাদের বিশ্বাস করতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে সবার সঙ্গে কথা বলছি, তারা বলছেন। আমাদের আন্দোলনকে ইতিবাচক ধরে রাজনৈতিক দলগুলো কিন্তু এ সরকারের পক্ষে থাকেনি, তাদের সমর্থন করেনি, নির্বাচনে যায়নি। একমাত্র জাতীয় পার্টি ছাড়া। এটা আন্দোলনের একটা বড় সাফল্য।’ তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় বলি, হটকারি করার প্রয়োজন নেই, স্থান নেই। সবাই আলোচনা করে একমত হয়ে এ সরকারকে সরাতে, গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে সংগ্রাম করছি। যুগপৎ আন্দোলন দৃঢ় করার জন্য এখানে যারা আছেন, সবাই কাজ করছেন। শুধু একটাই অনুরোধ, কেউ এমন কোনো কথা বলবেন না, যাতে এ ঐক্যে কখনো বিভক্তি সৃষ্টি হয়, ঐক্য বিনষ্ট হয়।’