ছুটি ছাড়াই হজ কাফেলা নিয়ে সৌদিতে মাদ্রাসা প্রভাষক

ছুটি ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভুলইন উত্তর ইউনিয়নের বেতাগাঁও ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গত ১৫ মে থেকে তিনি মাদ্রাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন। বাণিজ্যিকভাবে ৪০ জনের একটি হজ কাফেলার নেতৃত্ব দিতে তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, প্রভাষক মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ছাড়া অন্য সকল শিক্ষক মাদ্রাসায় উপস্থিত রয়েছেন। অধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকরা পাঠদানে ব্যস্ত। আলিম প্রথম বর্ষের তৃতীয় ক্লাসে আকাঈদ-ফিকহ বিষয়ে পাঠদানের কথা ছিল মাওলানা দেলোয়ারের।

তার অনুপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন অন্য আরবি প্রভাষক মাওলানা এএম কামরুল বারী। মাদ্রাসার হাজিরা খাতায় গত ১৫ মে থেকে প্রভাষক দেলোয়ারের স্বাক্ষরের স্থানটি খালি রয়েছে। স্বাক্ষরের স্থানটি খালি কেন? এমন প্রশ্ন শুনে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অনুপস্থিত প্রভাষকের স্বাক্ষরের স্থানে তাৎক্ষণিক ইংরেজিতে ‘এবি’ লিখে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার একজন শিক্ষক বলেন, মাওলানা দেলোয়ার ব্যবসা করেন। মুয়াল্লিম হিসেবে প্রতি বছর রমজানে ওমরাহ ও জিলহজ মাসে হজ কাফেলা নিয়ে তিনি সৌদি যান। ফিরে এসে আয়ের একটি অংশ কমিটির নেতাদের দিলে ছুটি অনুমোদন হয়ে যায়। অন্য বছরের ন্যায় এ বছরও তিনি ছুটি ছাড়াই ৪০ জনের একটি কাফেলা নিয়ে হজে গেছেন।

বেতাগাঁও ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মীর আহাম্মদ বলেন, ‘গত ১৫ মে থেকে আরবি প্রভাষক দেলোয়ার হোসেন সাহেব মাদ্রাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি ছুটির জন্য কোনো আবেদন করেননি।’

বেতাগাঁও ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার গর্ভনিং বডির সভাপতি আবদুল মতিন মোল্লা বলেন, ‘শুনেছি আরবি প্রভাষক মাওলানা দেলোয়ার হজে গেছেন। ফিরে আসলে জানতে চাইব ছুটি ছাড়া কিভাবে গেলেন? এর আগেও তিনি একাধিকবার হজ ও ওমরাহ করতে সৌদি গিয়েছিলেন।’

লালমাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদুল্লাহ বলেন, ‘আমাকে বিষয়টা কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিব।’

২০১৩ সালের ৪ মে বেতাগাঁও ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় যোগদান করেন মাওলানা দেলোয়ার। যোগদানের পর থেকে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি হজ-কাফেলাসহ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন।