ভারতের হিমালয়ের রাজ্য সিকিমে টানা বৃষ্টিতে ভূমিধস ও বন্যায় চলতি সপ্তাহে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে; আটকা পড়েছেন প্রায় দুই হাজার পর্যটক।
এছাড়া অবিরাম ভারী বৃষ্টির ফলে বৃহস্পতিবার উত্তর সিকিমের মাঙ্গান জেলায় একাধিক স্থানে ভূমিধস হয়েছে। সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরের মাঙ্গন জেলা।
শুক্রবার এ খবর জানায় ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তার পানির স্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় জাতীয় সড়ক এনএইচ ১০ এ পানিতে ডুবে যাওয়ায় দার্জিলিং, কালিম্পং এবং গ্যাংটকের মধ্যে পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া মাঙ্গানের সঙ্কলাং-এ সেতু ভেঙে পড়ায় জংগু, চুংথাং, লাচেন এবং লাচুং সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে আটকা পড়া পর্যটকদের যেখানে সেখানে থাকতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাঙ্গানের এসপি সোনম ডিচু।
টানা একদিনেরও বেশি সময় ধরে মাঙ্গানে বৃষ্টি হওয়ায় ভূমিধসে একাধিক জায়গায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে এ জেলা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সিকিমের একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হেম কুমার ছেত্রি সিএনএনকে বলেন, "গত ৩৬ ঘণ্টা থেকে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। আমরা মৃতদেহগুলো উদ্ধার করেছি এবং সেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।
বৃষ্টির কারণে অন্তত ৪৫টি বাড়ি, রাস্তা, সেতু এবং অবকাঠামো খুব খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রাস্তা মেরামতের জন্য কর্মী ও যন্ত্রপাতি পাঠানোর কথা জানিয়ে ছেত্রী বলেন, ক্ষয়ক্ষতি 'ব্যাপক', মেরামত করতে কিছুটা সময় লাগবে।
এদিকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেই বন্যার কারণে সিকিমের লাচুং এবং চুংথাং- এ আটকে পড়া প্রায় ২০০০ পর্যটককে বিমানে বা সড়কের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এক সিনিয়র কর্মকর্তা।
ভুটান, চীন ও নেপালের মাঝে অবস্থিত সাড়ে ছয় লাখ মানুষের ছোট্ট বৌদ্ধ রাজ্য সিকিম জনপ্রিয় একটি পর্যটন গন্তব্য। সিকিমে ২৮টি পর্বত শৃঙ্গ, ২১টি হিমবাহ এবং ২০০টিরও বেশি হ্রদ রয়েছে। কিন্তু হিমালয়ের চরম আবহাওয়ার কারণে প্রতি বছরই এ অঞ্চলটিকে মারাত্মক আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়।