স্মৃতির পাতায় আমির হোসেন আমুর ঈদ

'কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসলেই অপেক্ষায় থাকতাম কখন গরু কিনতে যাব। হাটে যাওয়ার বয়স হওয়ার পর থেকে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে আমি প্রতি ঈদে হাটে গিয়ে গরু কিনতাম। এ নিয়ে আমার মধ্যে উচ্ছ্বাস কাজ করতো, ভেতরে ভেতরে খুব উৎফুল্ল থাকতাম। সবসময় মাথায় থাকতো গরু যেন দেখতে সুন্দর ও সাইজে বড় হয়। সারাদিন হাটের এই প্রান্থ ওই প্রান্থ ঘুরে তারপর পছন্দসই গরু কেনা হতো। সেই গরুর রশি ধরে বাসায় নিয়ে আসতাম। সেটা এক অন্যরকম আনন্দ। শৈশবের সেই আনন্দ এখন আর খুঁজে পাই না নিজের মধ্যে'- শৈশবের ঈদের স্মৃতি নিয়ে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় এভাবেই দেশ রূপান্তরকে বলছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু। 

আওয়ামী লীগের কিংবদন্তি রাজনীতিক মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আমির হোসেন আমু শৈশবের ঈদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, তখন তো আমরা আনন্দ করতাম বড়রা তা উপভোগ করতো, এখন জীবনের পড়ন্ত বেলায় চলে এসেছি। তাই ঈদ নিয়ে আগের সেই উচ্ছ্বাস আনন্দ খুঁজে পাই না। এখন ছোটরা আনন্দ করে আর আমি তাদের মধ্যে নিজের শৈশবকে খুঁজে ফিরি। 

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কিংমেকার হিসেবে পরিচিত আমির হোসেন আমু বলেন, ঈদের দিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে গোসল করতাম। তখন প্রতিযোগিতা থাকতো বাড়িতে কে কার আগে ঘুম থেকে উঠে গোসল করতে পারে। আমাদের ছোট বেলা তো এখনকার মতো বদ্ধ ঘরে কাটেনি। তখন বাড়ির ছোট বড় সবাই এক সাথে গোসল করতো। এটাও ঈদের একটা বড় আকর্ষণ ছিল। এরপর নতুন জামা পড়ে মসজিদে যেতাম, মসজিদে যাওয়ার পর থেকে মনে হতো কখন জামায়াত শেষ হবে আর দৌড় দিয়ে বাড়িতে যাব এবং কোরবানির গরু জবাই দেব। ছোট মন কত কি যে চিন্তা হত তার অনেক কিছুই এখন আর মনে পড়ে না। 

ওহ আরেকটা কথা বলতেই ভুলে গেছি। ছোটবেলার ঈদে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেতাম বড়দের কাছ থেকে বখশিশ নিতে। বখশিশ হাতে পাওয়ার পর কি যে খুশি লাগত তা বলে বোঝানো যাবে না। কে কত বেশি বখশিশ আদায় করতে পারতো এ নিয়েও গোপন প্রতিযোগিতা চলতো বলে জানান আমির হোসেন আমু। 

আমির হোসেন আমু এবার ঈদ করেছেন ঢাকায়। সকালে জাতীয় ঈদগাহতে জামায়াত আদায় করেন তিনি। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গণভবনে যান। 

ছোটবেলার ঈদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আমির হোসেন আমু বলেন, বয়স যত বাড়তে লাগল আনন্দ উচ্ছ্বাস, উদযাপনে ভিন্নতা আসল। দিনে দিনে বড় হতে লাগলাম এরপর ধীরে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। রাজনীতি করতে গিয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে দায়িত্ব বেড়েছে। ঈদের আনন্দ একেক বয়সে একেক রকম। কিন্তু শৈশবের আনন্দই মনে গেঁথে আসে। 

জীবনের বাঁকে বাঁকে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জনের কথা জানিয়ে কিংবদন্তি এই নেতা বলেন, সালামি পেতে পেতে একটা সময় গিয়ে সালামি দেওয়া শুরু করলাম। সেই থেকে তো দিয়েই যাচ্ছি। পরিবারের সদস্য, দলীয় নেতাকর্মী সবাইকেই সালামি দিতে হয়।