পশু জবাইয়ে দেরি

মারধরের শিকার সেই ইমাম এখন এলাকাছাড়া

গাজীপুরের শ্রীপুরে পবিত্র ঈদুল আজহার দিন মসজিদ কমিটির সভাপতির পশু জবাইয়ে দেরি করায় মারধর ও চাকরিচ্যুতির শিকার হয়ে শেরপুরের গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন ইমাম আবুবক্কর সিদ্দিক। বুধবার (১৯ জুন) দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি। 

আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, ঈদের নামাজ শেষে ইদ্রিস আলী নামে একজনের কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য ডাকলে সেখানে যাই। এ সময় মসজিদ কমিটির সভাপতি কফিল উদ্দীন সাহেব ফোন দেন তার গরু জবাই করতে। একটু দেরি করে যাওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তার অনুমতি ছাড়া অন্যের গরু জবাই করায় রেগে গিয়ে আমাকে গালমন্দ করেন। আমার গায়ে হাতও তোলেন। পরে আমাকে চাকরি ছাড়তে বলা হয়।

হুমকির মুখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আবুবক্কর সিদ্দিক। এর আগে ১৭ জুন দুপুরে শ্রীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওর্য়াডের ভাংনাহাটি মধ্যপাড়া বায়তুন নূর জামে মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামরুজ্জামান মন্ডল বলেন, ঈদের দিন এটি জঘন্য কাজ হয়েছে। আহত ইমাম আমার বাড়িতে এক রাত ছিলেন। পরে গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

এদিকে ইমামকে মারধর ও চাকরিচ্যুত করার একদিন পর এ নিয়ে খবর সংগ্রহ করতে গেলে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মসজিদ কমিটির সভাপতি কফিল উদ্দীনের ভাতিজা সেলিম মিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

শ্রীপুর মডেল থানার এসআই আফজাল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়েছিলাম। বেশ কিছু বিষয় তদন্ত করে ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়েছে।’