সুখবর পেলো বসুন্ধরা কিংস

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) নয়া ক্লাব ফরম্যাটে কপাল পুড়েছে বাংলাদেশে ক্লাবগুলোর। কমেছে আন্তর্জাতিক আসরে খেলার সুযোগ। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে একমাত্র সুযোগটি পাচ্ছে বসুন্ধরা কিংস। সেটাও এতদিন ছিল সর্বনিম্ন স্তর এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অফ পর্বে।

তবে বুধবার সুখবর পেয়েছি টানা পাঁচবার লিগ শিরোপা জিতে ইতিহাসে ঠাঁই করে নেওয়া বসুন্ধরা কিংস। এএফসি’র নতুন সিদ্ধান্তে প্লে-অফ নয়, এখন গ্রুপপর্বে সরাসরি খেলতে পারবে সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ট্রেবল শিরোপাজয়ী দলটি। প্লে-অফ থেকে বাই পেয়ে সরাসরি গ্রুপপর্ব খেলার সুযোগ পাচ্ছে পাঁচটি ক্লাব। র‌্যাংকিংয়ের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা আগামী অক্টোবরে অংশ নিবে গ্রুপপর্বে।

নতুন ফরম্যাটে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো পড়েছে ওয়েস্ট জোনে। যেখানে সেন্ট্রাল এশিয়ার দলগুলোও এএফসি’র নতুন ক্লাব ফরম্যাট অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে খেলবে। ২০২৪-২০২৫ মৌসুম থেকে চালু হতে যাওয়া নতুন ফরম্যাটে শীর্ষ স্তর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিট। যেখানে অংশ নিবে এশিয়ার শীর্ষস্তরের ক্লাবগুলো। দ্বিতীয় স্তর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-টু। আর সর্বনিম্ন স্তর এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ। সর্বশেষ এএফসি কাপের গ্রুপপর্বে সেরা হতে না পারায় বসুন্ধরা কিংসকে রাখা হয়েছিল প্লে-অফ পর্বে।

তবে বুধবার প্রকাশিত তালিকায় পাঁচটি ক্লাবকে প্লে-অফ থেকে বাই দিয়ে ওয়েস্ট জোনের ১২ দলের গ্রুপপর্বে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বসুন্ধরা কিংস ছাড়াও বাই পাওয়া ক্লাবগুলো মধ্যে রয়েছে সিরিয়ার আল ফুতোয়া, ওমানের আল সিব, মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস এন্ড রিক্রিয়েশন ক্লাব ও ফিলিস্তিনের হিলাল আর কুদস। আগে থেকেই গ্রুপপর্বে থাকা কুয়েতের আল আরাবি এসসি, তুর্কেমেনিস্তানের এফসি আরকাদাগ, লেবানন লিগের শীর্ষ দলের সঙ্গে আরও যোগ হবে দ্বিতীয় স্তর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-টু-এর প্লে-অফ রাউন্ড থেকে বাদ পড়া দু’টি ক্লাব।

এছাড়া এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অফ রাউন্ড থেকে উঠে আসবে চার দলের দু’টি। এই ১২ দল নিয়ে আগস্টে হবে ড্র। সে সময়ই আয়োজকের নামও চূড়ান্ত হবে। ২৬ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বরের মধ্যে হবে গ্রুপপর্বের খেলা। ওয়েস্ট জোনের তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দলের সঙ্গে ইস্ট জোনের দুই গ্রুপসেরাকে নিয়ে হবে কোয়ার্টার ফাইনাল। এরপর ধাপে ধাপে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল হবে। আগামী বছর শুরুতে। কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল হবে হোম এন্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে।

ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষস্তরে নাম লেখার পর থেকেই অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বসুন্ধরা কিংস। টানা পাঁচটি লিগ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি একাধিকবার জিতেছে ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপ শিরোপা। সর্বশেষ মৌসুমে ট্রেবল জয়ের চক্রও পূরণ করেছে তারা। তবে ঘরে অদম্য বসুন্ধরা কিংস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেভাবে সাফল্য পায়নি। ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চারটি এএফসি কাপের গ্রুপপর্বে খেলেছে দলটি। প্রতিবারই খুব কাছে গিয়েও ভারতীয় দলের সঙ্গে পেড়ে ওঠেনি তারা। ফলে এএফসি ক্লাব র‌্যাংকিংয়ে খানিকটা পিছিয়ে যেতে হওয়ায় নতুন ফরম্যাটের সর্বনিম্ন স্তরে খেলতে হচ্ছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নদের।

প্লে-অফ খেলতে না হওয়ায় বসুন্ধরা কিংস গ্রুপপর্বের জন্য একটি শক্তিশালী দল গড়ার যথেষ্ট সময় পেয়েছে। ইতিমধ্যে শুরু হ্ওয়া দলবদলে ঘরোয়া ফুটবলে সেরা দল গড়া অনেকটাই নিশ্চিত করেছে তারা। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পেতে দলটির প্রয়োজন আরও উন্নতমানের একাধিক বিদেশী ফুটবলার। এর পাশাপাশি কোচ বদলের একটা জোড় সম্ভাবণার কথাও উঠেছে। আবির্ভাবের শুরু থেকে দলের দায়িত্বে থাকা স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোনের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাবে জুলাই মাসে। এই কোচ আন্তর্জাতিক সফলতা এনে দিতে না পারায় তাকে বদলের ভাবনা রয়েছে বসুন্ধরা কিংসের শীর্ষ কর্তাদের।

এদিকে বাংলাদেশের একটি দল সর্বনিম্ন পর্যায়ে খেললেও পাশের দেশ ভারতের দু’টি দল খেলবে মধ্যস্তর এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-টু। এর মধ্যে মোহনবাগান সরাসরি গ্রুপপর্বে খেললেও ইস্ট বেঙ্গলকে খেলতে হবে প্লে-অফ পর্বে। সেটা উতরাতে না পারলে তাদের ঠাঁই হবে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপপর্বে।