ঈদুল আজহায় যেখানে-সেখানে পশু জবাই বন্ধে ১৪১টি নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানির উদ্যোগ নেয় খুলনা সিটি করপোরেশন। কিন্তু নির্ধারিত এসব স্থানে পশু কোরবানি করতে আসেনি কেউ। নগরবাসীর অভিমত, উদ্যোগটি কাজে না আসায় শুধু অর্থেরই অপচয় হয়েছে।
ঈদের দিন গত সোমবার সরেজমিনে সার্কিট হাউজ মাঠের সামনের সড়ক, বড় মির্জাপুর সড়ক, খানজাহান আলী সড়ক ও নিরালাসহ নগর ঘুরে দেখা গেছে, বাসাবাড়ির সামনে ও রাস্তার ওপরই পশু কোরবানি করেছে নগরবাসী। অনেককেই বাড়ির ভেতরে গ্যারেজ ও উন্মুক্ত স্থানে পশু কোরবানি করতে দেখা গেছে।
আব্দুল্লাহ আল কাফি ও সুমন আহমেদসহ কয়েকজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানির জন্য ওয়ার্ড প্রতি ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকে। আগেই শামিয়ানা, খাটিয়া, শ্রমিকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করে স্থান প্রস্তুত রাখে সিটি করপোরেশন। অথচ সেখানে কোরবানির পশু জবাইয়ে মানুষের আগ্রহ নেই। মানুষ আগের মতোই যত্রতত্র বাসাবাড়ি, সড়ক ও গ্যারেজে পশু জবাই করেছে। ওইসব জায়গায় পশু নিতে করপোরেশনের তেমন জোর তৎপরতাও চোখে পড়েনি। ফলে অর্থের অপচয়ই হচ্ছে। কিন্তু উদ্যোগ সঠিক কাজে আসছে না।
গতকাল বুধবার এ ব্যাপারে জানতে চাইলে করপোরেশন ভেটেরিনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘কী পরিমাণ পশু নির্ধারিত স্থানে আনা হয়েছে তার হিসাব এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না।’
অন্যদিকে, ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকেই বর্জ্য অপসারণে নগরীতে কনজারভেন্সি বিভাগের তৎপরতা শুরু হয়। বিকেল থেকে দ্রুত কাজ শুরু করেন শ্রমিকরা। রাত ১০টা পর্যন্ত সিটি করপোরেশেনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্জ্য অপসারণে কাজ করেন।
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, বর্জ্য অপসারণে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ৮৬০ জন শ্রমিক, বিভিন্ন সাইজের ৭৬টি ট্রাক, গার্বেজ লোডার, পে-লোডার ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। বর্জ্য অপসারণের পর নগরীর ওয়ার্ডগুলোতে ৪ হাজার কেজি ব্লিচিং পাউডার এবং ২৪ লিটার স্যাভলন ছিটানো হয়েছে। ঈদের দিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব বর্জ্য অপসারণ করা হয়।