উপজেলা চেয়ারম্যানের সভা বয়কট করলেন ১০ ইউপি চেয়ারম্যান

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের প্রথম সভা বয়কট করেছেন ১০ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। এ নিয়ে পুরো আনোয়ারা উপজেলায় চলছে আলোচনার ঝড়। 

গত ১২ জুন শপথ নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথমে মতবিনিময় সভায় ও পরে প্রথম সাধারণ সভায় যোগ দেন উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক। এরপর থেকেই দলে দলে মিছিল সহকারে উপজেলা প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মী ও উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুসারীরা। 

উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইশতিয়াক ইমনের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী,সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মৃণাল কান্তি ধর, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এম এ মান্নান মান্না, নারী ভাইস চেয়ারম্যান চুমকী চৌধুরী।

সভা বয়কটকারী চেয়ারম্যানরা বলেন, 'উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলা করা হয়েছে। এতে করে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মান্নান চৌধুরীর ওপর হামলা করেছে, তারা আজ দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে নতুন উপজেলা চেয়ারম্যানের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল। আনোয়ারায় যে শান্ত পরিবেশ ছিল, তা এখন অনুপস্থিত। তাই শান্ত পরিবেশ ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা সভায় উপস্থিত হতে পারছি না।

অপরদিকে এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক বলেন, 'ইউপি চেয়ারম্যানদের সভার চিঠি ছাড়াও একাধিকবার ফোন করে জানানো হয়েছে। তারপরও তারা উপস্থিত হননি। তারা হয়তো মনে করছেন, তারা না আসলে উপজেলা পরিষদ অকার্যকর হবে। তারা হয়তো নির্বাচনের এই বিজয়কে মেনে নিতে পারছেন না। তাই তারা একেক ইস্যু দেখিয়ে সংকট সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। তবে মনে হয় না কোনো সংকট সৃষ্টি হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক ধারা সৃষ্টি হয়েছে,তা ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। আশা করি তারা সফল হবে না।'

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা এবং সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদের প্রথম সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। কিন্তু এ সভায় অনুপস্থিত ছিলেনম বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নোয়াব আলী, বারশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ্, রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিন শরীফ,বটতলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুব আলী,বারখাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসনাইন জলিল চৌধুরী শাকিল,আনোয়ারা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অসিম কুমার দেব, চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী সোহেল, পরৈকোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল হক চৌধুরী বাবুল,হাইলধর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কলিম উদ্দিন ও জুঁইদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইদ্রিচ। 

এ বিষয়ে বারশত ইউপি চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ্ বলেন, 'যারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ ইউপি চেয়ারম্যানদের ওপর হামলা চালিয়েছে,তারা আজ উপজেলা প্রাঙ্গণে দাপট দেখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যারা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়েছে, শান্ত আনোয়ারাকে অশান্ত করেছে,তারা যদি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে-তাহলে আমাদের কীভাবে যাওয়া সম্ভব।'

এদিকে উপজেলা পরিষদের আগামী সভায় উপস্থিত হবেন  কী না তা পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেছেন চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী সোহেল। তিনি বলেন,'সভায় যোগদান করার মতো নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পরিবেশ যদি সৃষ্টি হয় আমরা অবশ্যই যোগদান করব। কারণ-ইউপি চেয়ারম্যানরা উপজেলা পরিষদের সদস্য।'