হরিজনদের সুরক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

স্থায়ী পুনর্বাসন ছাড়া রাজধানীর বংশালের মিরনজিল্লা পল্লী থেকে হরিজনদের উচ্ছেদ বন্ধ করাসহ এ সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় বেশ কিছু দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ। গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ শেষে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডাক ও বিতরণ শাখা এ স্মারকলিপি গ্রহণ করে।

বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণ লাল, মহাসচিব নির্মল চন্দ্র দাসসহ প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন ঢাকা মহানগর হরিজন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনু দাস, হরিজন সেবক সমিতির সভাপতি কৃষ্ণ চরণ কুঞ্জলাল, হরিজন ঐক্য পরিষদের সহসভাপতি লেবু ভাস্কর, সাংগঠনিক সম্পাদক পান্না লাল ভাস্কর।

এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক পদ্মাবতী দেবী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

হরিজন ঐক্য পরিষদের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্থায়ী পুনর্বাসন ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মিরনজিল্লা কলোনি উচ্ছেদের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। দেশের সব হরিজন কলোনি থেকেও স্থায়ী পুনর্বাসন ছাড়া হরিজনদের উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে। যেসব জেলা, উপজেলা, রেলওয়ে ও হাটবাজারে হরিজনদের আবাসন রয়েছে, সেগুলো হরিজনদের স্থায়ীভাবে দলিল করে দেওয়া। হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষদের ভূমিহীন বিবেচনায় স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় হরিজন সম্প্রদায়ের লোকদের চাকরির ব্যবস্থা করা। সরকারের সব প্রতিষ্ঠানে ঝাড়–দার/ক্লিনার/সুইপার পদে আউটসোর্সিং নিয়োগ বন্ধ করে হরিজনদের জন্য ৮০ ভাগ কোটা বাস্তবায়ন এবং হরিজনদের শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের জন্য অন্য পদে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা প্রবর্তনের পরিপত্র বাস্তবায়ন করা। হরিজনদের প্রতি বৈষম্য বন্ধে সংসদে উত্থাপিত বৈষম্য নিরোধ আইন পাসের আগে হরিজন জনগোষ্ঠীর মতামত নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ।