ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সমাধানের উদ্যোগ নেই

রাজশাহীর সব থেকে ব্যস্ততম মার্কেট আরডিএ মার্কেট। শুধু উৎসবেই নয়, বছর জুড়েই এখানে ক্রেতা সমাগম ঘটে। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) বানানো এ মার্কেটটিকে অনেকেই মরণফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত করেন। ফায়ার সার্ভিস, সিটি করপোরেশন, আরডিএ কর্তৃপক্ষও এ কথা স্বীকার করে। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক সুবিধা না থাকাসহ নানা অব্যবস্থাপনার কথা বিভিন্ন সময়ে উঠে আসে। আরডিএ কর্তৃপক্ষ এটি ভেঙে নতুন মার্কেট বানানোর কথা বহু বছর ধরে বলে এলেও এর বাস্তবায়নের কোনো আভাস মিলছে না। এ অবস্থায় অনেকেই বলতে শোনা যায় বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে হয়তো এ মার্কেট আর সংস্কার হবে না। পরিকল্পিত নগর গড়ার দায়িত্বে থাকা রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ১৯৮৮ সালে রাজশাহীর সাহেববাজারে এ মার্কেটটি চালু করে। ২০০৬ সালে মার্কেটের সংস্কার ও বর্ধিতকরণের পর এটির পরিসর বাড়ানো হয়। এরপর ধাপে ধাপে ওঠানো হয়েছে কয়েকতলা। অপরিকল্পিতভাবেই বেড়েছে মার্কেটের পরিধি। রাজশাহী শহরের সব থেকে বড় এ মার্কেটর ভেতরের ঘিঞ্জি পরিবেশ। সবখানেই বৈদ্যুতিক তারের জঞ্জাল, বাইরে থেকে বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা নেই। আগুন লাগলে তাৎক্ষণিকভাবে তা নেভানোর কোনো ব্যবস্থাই নেই। এমনকি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এসে আগুন নেভানোর যে উদ্যোগ নেবে, সেরকম জায়গা কিংবা সুবিধা কোনোটিই নেই মার্কেটটিতে।

তিনতলা এ মার্কেটটিতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার দোকান রয়েছে। যেকোনো উৎসব ছাড়াও প্রতিদিনই অগণিত ক্রেতার সমাগম ঘটে ভয়ংকর ঝুঁকিতে থাকা এ মার্কেটে। মূলত নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের কাছে সব থেকে পছন্দের মার্কেট এটি। মার্কেটের ভেতরে বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা না থাকায় গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ আরডিএ মার্কেটকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে বেচাকেনা। যেকোনো সময় ভয়ংকর দুর্ঘটনার শঙ্কা মাথায় নিয়ে চলছে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ প্রায় পাঁচ বছর আগেই এ মার্কেটকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে মার্কেটের সামনে সাইনবোর্ড টানিয়েছিল। কিন্তু এসব আমলে নেয়নি কেউ।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু সামা বলেন, এখানকার পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ভয়ংকর পরিবেশে এখানে ব্যবসা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সাইনবোর্ডও দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগতও করা হয়েছে। এরপরও এ নিয়ে বড় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ঝুঁকির কথা স্বীকার করছেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও। তবে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখানে নতুন করে বড় মার্কেট বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে আরডিএ কর্তৃপক্ষের। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এখানে যেসব ব্যবসায়ী আছেন তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি। এতসংখ্যক ব্যবসায়ীকে পুনর্বাসন করার কাজটি কঠিন।