পরিবার রাজি না হওয়ায় নিজেরাই বিয়ে করেন শাকিল-জান্নাতি। কিন্তু বিয়ের দুই মাসের মধ্যে ঈদুল ফিতরে দিন (১১ এপ্রিল) সড়ক দুর্ঘটনায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় শাকিলের। তার পরিবাবরের দাবি মেয়ের পক্ষের লোকরা তাকে হত্যা করেছেন। মৃত্যুর দুই মাস পর নিহতের বড় বোন রাশেদা বেগম আদালতে মামলা করেছেন।
জানা যায়, নিহত শাকিল মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের আঠালিয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। আজ শনিবার (২২ জুন) দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করা মামলা করেন রাশেদা।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, আঠালিয়া গ্রামের মকবুল (২৫) ও মঞ্জুরুল ইসলাম (২৫) সহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে। মামলাটি মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ এর বিচারক আমলে নিয়ে সিংগাইর থানার ওসিকে আগামী ৭ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গত ৬ জুন মামলাটি দায়ের করেন বলে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জহিরুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, নিহত শাকিল প্রতিবেশী জান্নাতিকে প্রেম করে বিয়ে করে। কিন্তু তার স্ত্রীর পরিবার সে বিয়ে মেনে নেয়নি। দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ মিটাতে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয় অভিযুক্ত আসামি মকবুল ও মঞ্জুরুল। সুযোগ নিয়ে গত ঈদুল ফিতরের দিন (১১ এপ্রিল) দুপুর দেড় টায় ঘুরতে বেড়িয়ে হেমায়েতপুর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের জায়গীর ও ভূমদক্ষিণ স্ট্যান্ডের মাঝামাঝি চলন্ত সিএনজির ভেতরে শাকিলকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে মকবুল ও মঞ্জুরুল। এ সময় ওই সড়কের এক মোটর সইকেলের সাথে সংঘর্ষে সিএনজি উল্টে যায়। অজ্ঞাত দুই আসামি পালিয়ে যায়। আসামি মকবুল ও মঞ্জুরুল মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে ঘটনাস্থল থেকে উধাও হয়। আশপাশের লোকজন নিহত শাকিলকে সাভারস্থ হেমায়েতপুর জামাল ক্লিনিকে ভর্তি করলে বাদীর পরিবার ও তার স্বজনরা দুর্ঘটনার সংবাদ পান।
মামলার বাদী রাশেদা বেগম অভিযোগ, গত রোজার ঈদের দিন আমার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসামিরা মদ পান করিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করলেও সড়ক দুর্ঘনায় মারা গেছে এমন খবরে আমরা লাশ ময়নাতদন্ত করতে দেয়নি। ঘটনার দুই দিন পর হত্যা আসল রহস্য জানতে পারি। পরে আদালতে মামলা করি। মামলা সঠিক তদন্তে নিহতের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের দাবিও জানান তিনি।
অভিযুক্ত আসামি মকবুল ও মঞ্জুরুল হক হত্যার কথা অস্বীকার করে বলেন, ঈদের নামাজ পড়ে সিএনজি নিয়ে আমরা ঘুরতে বের হই। দুপুরের দিকে আমাদের গ্রামের জলিলের ভিটা থেকে শাকিল আমাদের সিএনজিতে ওঠে। এরপর মোটরসাইকেলের সাথে সিএনজির সংঘর্ষে জায়গীর এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানেই শাকিলের মৃত্যু হয়। তারা সকলেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে মকবুল ও মঞ্জুরুল স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, মামলার সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।