ইউএনওর ক্ষমা প্রার্থনা সচল হলো বিদ্যুৎ সংযোগ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের লাইন টেকনিশিয়ানকে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স। জেলা প্রশাসক ও জামালপুর পল্লীবিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠকে ইউএনও দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। গত শুক্রবার বিকেলে জামালপুর সার্কিট হাউজে ওই বৈঠক হয়। আর এই সমঝোতা বৈঠক শেষে ২৪ ঘণ্টা পর ইউএনওর বাসভবনের বিচ্ছিন্ন করা বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়।

জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে সার্কিট হাউজে উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেন জেলা প্রশাসক মো. শফিউর রহমান। দীর্ঘ আলোচনার পর পল্লীবিদ্যুৎ কর্মচারীকে বেঁধে রাখার ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন আনসার সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এ সময় ইউএনও শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স ওই দিনের ঘটনায় ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন। এরপর রাতে ইউএনওর সরকারি বাসভবনসহ আশপাশের এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা হয়। সমঝোতা বৈঠকে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং জামালপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জামালপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের এজিএম শেখ ফরিদ বলেন, ‘লাইন টেকনিশিয়ানকে বেঁধে রাখার ঘটনায় ইউএনও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সেইসঙ্গে তিন আনসার সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টির সমাধান হয়েছে।’

এ বিষয়ে ইউএনও শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স বলেন, ‘আমি সে সময় ছুটিতে ছিলাম। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কর্মস্থলে ফিরে আসি। জেলা প্রশাসক এবং পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সেই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সম্মানজনক সমাধান হয়েছে। এখন আর কোনো সমস্যা নেই। রাতেই বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. শফিউর রহমান বলেন, ‘পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় ইউএনওর বাসভবনসংলগ্ন আনসার ব্যারাকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করতে যায় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির দুই কর্মচারী। সংযোগ বিছিন্ন করতে চাওয়ায় ইউএনওর নির্দেশে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারীকে বেঁধে রাখার অভিযোগ ওঠে। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারীরা ইউএনওর প্রত্যাহার দাবিতে আন্দোলনে নামে।