পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের অনুরোধে তাকে অতিরিক্ত ১৬ দিন সময় দেওয়া হলেও তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হননি।
আজ রোববার সকাল ১০টার মধ্যে তার দুদকের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার কথা ছিল। তবে সকাল ১১টা পর্যন্ত তিনি দুদক কার্যালয়ে আসেননি।
জানা গেছে, বেনজীর আহমেদ গত ৪ মে স্বপরিবারে দেশ ত্যাগ করেছেন। এর আগে তাকে গত ৬ জুন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। বিদেশে অবস্থান করায় তিনি ওইদিন দুদকে হাজিন হননি। পরে তিনি সময় চেয়ে আবেদন করলে তাকে ১৬ দিনের সময় দিয়ে রোববার ডাকা হয়।
এদিকে দুদকের একাধিক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য নতুন কোনো আবেদনও করেননি বেনজীর আহমেদ।
অবশ্য দুদকের আইনে সময় চেয়ে দ্বিতীয়বার আবেদনের সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতে শিগগিরই তার ঠিকানায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ পাঠানো হবে। এরপর ২১ কর্মদিবস এবং পরে সময়ের আবেদন করলে আরও ১৫ কর্মদিবস সময় পাবেন তিনি। তবে বিদেশে অবস্থান করায় বেনজীর যেমন দুদকের নোটিশ গ্রহণ করতে পারবেন না, তেমনি দুদকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতেও ব্যর্থ হবেন।
বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে কমিশনের তদন্তকারী দল তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে দুদকের প্রধান আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে না এলে বেনজীর আহমেদ আর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সময় দেওয়া হবে না। অনুসন্ধান শেষে অনুসন্ধানকারী দল কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এরপর কমিশনের অনুমতিক্রমে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এদিকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হতে তিনি বিদেশ থেকে দেশে পৌঁছেছেন কিনা– তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে জানার জন্য বেনজীরের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক ও ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ ফারুকের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে বেনজীরের স্ত্রী জিসান মির্জা, দুই মেয়ে– ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাশিন রাইসা বিনতে বেনজীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামী সোমবার ডাকা হয়েছে। তারাও বেনজীরের সঙ্গে গত ৪ মে দেশ ত্যাগ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিতে তারা দেশে এসেছেন কিনা– এটিও নিশ্চিৎ হওয়া যায়নি।
বেনজীরের পরিবারের এই তিন সদস্যকে এর আগে গত ৯ জুন জিজ্ঞাসাদাদের জন্য ডাকা হলেও বিদেশে থাকায় তারাও নির্ধারিত তারিখে হাজির হতে পারেননি। পরে তারা সময় চেয়ে আবেদন জানালে তাদেরকে ১৪ দিন সময় দিয়ে সোমবার ডাকা হয়েছে।
বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে গত ১৮ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্তে নামে দুদক।