গাজায় দীর্ঘ আট মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইসরায়েলের বর্বর হামলা ও আগ্রাসনের ফলে আনুমানিক ২১ হাজার শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেন।
এসব শিশুর অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে বা তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরা।
নিখোঁজ এসব শিশুর বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছেন সেভ দ্যা চিলড্রেনের আঞ্চলিক পরিচালক জেরেমি স্টোনার।
এছাড়া, সেভ দ্য চিলড্রেনের মানবিক নীতি ও অ্যাডভোকেসির প্রধান আলেকজান্দ্রা সাইয়েহ রয়টার্সকে বলেন, গাজায় আনুমানিক ১৭ হাজার শিশু পরিবারহীন এবং বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে, এছাড়া আরও ৪ হাজার শিশু সম্ভবত ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে আছে।
সংস্থাটি এই বিচ্ছিন্ন এবং পরিবারহীন শিশুদের সুরক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপের উপর জোর দিয়েছে। তবে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই কাজ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক জেরেমি স্টোনার বলেন, “কোনো অভিভাবককে যেন তাদের সন্তানের মৃতদেহ খুঁজে বের করতে ধ্বংসস্তূপ বা গণকবর খুঁড়তে না হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো শিশু একা, অরক্ষিত থাকা উচিত নয়। কোনো শিশুকে আটক করা বা জিম্মি করাও উচিত নয়।”
এ সময় তিনি যেসব শিশু নিখোঁজ কিন্তু বেঁচে আছে, দুর্বল, গুরুতর সুরক্ষা ঝুঁকির সম্মুখীন তাদের খুঁজে বের করার প্রতি জোর দেন। তাদের রক্ষা করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার প্রতি জোর দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যে শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের মৃত্যু চিহ্নিত করতে হবে এবং জবাবদিহিতা চাওয়া হবে।
তিনি বলেন, গাজা শিশুদের কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার নিখোঁজ শিশুর ভাগ্য অজানা। এ বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত হতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহি করতে হবে।
এছাড়া বেঁচে যাওয়া নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের সহায়তা করার জন্য এবং আরও পরিবারকে ধ্বংস হওয়া থেকে রোধ করার জন্য যুদ্ধবিরতি দরকার বলেও মন্তব্য করেন স্টোনার।