মাজারের জমি দখল করে পার্ক গড়েন মতিউর

ছাগলকাণ্ডে আলোচনায় আসার পর থেকে একের পর এক দুর্নীতির তথ্য সামনে আসছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের। এবার জানা গেল, নরসিংদীর রায়পুরায় একটি মাজারের জমি দখল করে পার্ক করেছেন মতিউর। ওয়ান্ডার পার্কটি স্থানীয়ভাবে লাকি পার্ক নামে পরিচিত। 

জানা গেছে, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মরজাল এলাকার সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ডে জমির মালিক সবর আলী মোল্লা ও সিফর আলী ফকির। ১৯৮৯ সালের ২২ নভেম্বর তাঁদের বাবা মো. সায়েব আলী ফকিরের নামে মাজার নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০৫ শতাংশ জমি ওয়াকফ করেন। সেই মাজারের দলিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদেম মো. শাহাজ উদ্দিন। ২০০৪ সালে ওই মাজার জোর করে দখলে নেন রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মতিউর রহমানের স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকি। আর সেখানেই গড়ে তোলেন ওয়ান্ডার পার্ক, যা স্থানীয়ভাবে লাকি পার্ক নামে পরিচিত। 

মাজারের খাদেম মো. শাহাজ উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল আলম মুখলেছ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাজার, সামাজিক কবরস্থান কোনো কিছুই রেহাই পায়নি রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর ও তাঁর স্ত্রী লাকির কাছ থেকে। সব দখল করেছেন। কেউ আপত্তি করলে তাদের নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে কিংবা মামলা দিয়ে শায়েস্তা করেছেন। সায়েব আলী ফকিরের মাজারটি তাঁরা জাল কাগজপত্র তৈরি করে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ২০০৪ সালে জোর করে দখল করে নিয়েছেন। প্রতিবাদ করেও কাজ হয়নি। উল্টো হামলার শিকার হতে হয়েছে আমাদের।’

জানা গেছে, বিয়ের পর গত দেড় দশকে স্বামীর অবৈধ টাকায় জোর করে মানুষের জমি দখল, সামাজিক কবরস্থান দখল করে মরজালে শত বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন লাকি পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট। স্বামীর অবৈধ অর্থে গড়ে তোলা পার্কে চলে অসামাজিক কার্যকলাপ।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুন দেশ রূপান্তরে ‘রাজস্ব কর্মকর্তার ছেলের অর্ধকোটির কোরবানি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর আলোচনায় আসেন এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমান। ওই সংবাদে বলা হয়, এক ছাগলের দাম ১৫ লাখ টাকা, যা পরবর্তীতে বিক্রী হয় ১২ লাখ টাকায়। এই ছাগলটি ক্রয় করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত। তার ছাগল কেনার  ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ছাগল কিনে আলোচনায় আসা ইফাত ছাগলের পাশাপাশি আরও চারটি গরু কিনেছেন ৩৭ লাখ টাকায়। সব মিলিয়ে এবার অর্ধকোটি টাকার কোরবানি দিচ্ছেন তিনি।