সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে কর্মী নেওয়া বন্ধ করেছে মালয়েশিয়া সরকার। আর শ্রমবাজারটি বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশি হাজার হাজার কর্মীর স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। পাসপোর্ট, ভিসা ও কাজের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও মালয়েশিয়া যেতে না পারা কর্মীদের কারণ অনুসন্ধানে গত ২ জুন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নূর মো. মাহবুবুল হককে প্রধান করে এই কমিটি করা হয়। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ১১ জুন আরও পাঁচ কার্যদিবস বাড়ায় মন্ত্রণালয়।
সে অনুযায়ী আজ সোমবার (২৪ এপ্রিল) শেষ দিনে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব নূর মোহাম্মদ মাহবুবুল হক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত পর্যালোচনা করে পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।
এর আগে তদন্ত প্রতিবেদন জমা ঘিরে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দুই দফায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন বায়রার বর্তমান ও সাবেক কমিটির নেতারা। তবে প্রতিবেদনে কয়টি এজেন্সিকে চিহ্নিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে কথা বলেননি প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান। তবে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের শাস্তি দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন।
জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, গত ৩১ মে পর্যন্ত দেশটিতে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৬ জন বাংলাদেশি কর্মীকে পাঠানোর অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ছাড়পত্র দেয় প্রায় ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬৪২ জনকে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি কর্মী ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকায় মালয়েশিয়া যেতে পারবেন। এ খরচের আওতায় থাকবে পাসপোর্ট খরচ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিবন্ধন ফি, কল্যাণ ফি, বিমাকরণ, স্মার্ট কার্ড ফি ও সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ। আর ঢাকা থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার উড়োজাহাজ ভাড়াসহ ১৫টি খাতের খরচ বহন করবে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু সিন্ডিকেটের গড়া ফাঁদে পড়ে গড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা খরচ করে কর্মীদের মালয়েশিয়া যেতে হয়েছে। অনেকে যেতে পারলেও শেষ সময়ে সরকারি হিসেবে আটকা পড়েছেন ১৬ হাজার ৯৭০ জন। আর বিএমইটি তথ্য অনুযায়ী মালয়েশিয়া যেতে পারেনি প্রায় প্রায় ৩১ হাজার কর্মী। দেশটিতে যেতে না পারা কর্মীদের ভাগ্য এখন এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে।