নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়ে উপজেলা আ.লীগের কমিটি, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আসানুল কবিরকে বাদ দিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বেলায়েত হোসেন লিটন মাঝিকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। সোমবার (২৪ জুন) বিকাল ৪ টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ জানান তারা৷ এসময় এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ৪৯৬ জন কাউন্সিলর ভোট দেন। এতে ৩২৮ ভোট পেয়ে  হাফিজ আল আসাদ বারেক সভাপতি এবং এ কে এম আসানুল কবির ২৩৬ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। 

সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমানের ছেলে সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাম রাব্বানী শান্ত ১৩৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং বেলায়েত হোসেন লিটন মাঝি ৬৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন৷ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পরে মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জেলা আওয়ামী লীগ বরাবর পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিতে বলেন। সেই মোতাবেক টঙ্গিবাড়ী উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার বরাবর জমা দেওয়া হয়। 

কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিতে নানান টালবাহানা ও সময় ক্ষেপণের মাধ্যমে দুই বছরেরও অধিক সময় অতিবাহিত করেন। পরে গত শুক্রবার (২১ জুন) সবার অগোচরে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আসানুল কবিরকে বাদ দিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বেলায়েত হোসেন লিটন মাঝিকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি পকেট কমিটি ফেসবুকে প্রকাশ করে জেলা আওয়ামী লীগ৷ 

সংবাদ সম্মেলনে টঙ্গিবাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজ আল আসদ বারেক অভিযোগ করেন, আমাদের (সভাপতি-সম্পাদক) সুপারিশ করা ৭১ সদস্যের কমিটির মধ্যে অন্তত ৪০ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে৷ নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককেই বাদ দেওয়া হয়েছে৷ একজন বাসার কাজের লোককে সহ সভাপতি করা হয়েছে৷ যারা বিগত সময়ের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কাজ করেছে কমিটিতে তাদের স্থান দেওয়া হয়েছে৷ আমরা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি৷ আমরা এই অগঠনতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাই৷ 

উপজেলা আওয়ামী লীগের এই সভাপতি বলেন, সম্মেলনে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন৷ 

এছাড়া দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সাম্পাদক মির্জা আজম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণালকান্তি দাস ও সাগুফতা ইয়াসমিনও উপস্থিত ছিলেন৷ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন ওই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান প্রধান বক্তা ছিলেন৷ 

জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার সামনেই আমাকে সভাপতি হিসেবে এবং এ কে এম আসানুল কবিরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম ঘোষনা করা হয়৷ তারপরও তারা তৃতীয় ব্যক্তিকে সাধারণ সম্পাদক করে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছে৷ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাই, আমরা এর প্রতিকার চাই৷  

সংবাদ সম্মেলনে টঙ্গিবাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এবং আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন৷