জনবল সংকটে উন্নয়ন থমকে

আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে খুলনাকে গড়ে তুলতে গঠন করা হয় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। কিন্তু নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনেকটাই ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানটি। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দরকার জনবল। কিন্তু কেডিএর জনবলের চিত্র হতাশাজনক। প্রতিষ্ঠানটির ৪৪৬ পদের বিপরীতে ২৫২টিই শূন্য। কর্মকর্তাসহ ১৭ পদ চলছে চলতি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে। এ ছাড়া পদোন্নতি না পেয়ে হতাশায় কাজে অনীহা প্রকাশ করছেন অনেকেই। যে কারণে ঝিমিয়ে পড়েছে উন্নয়নকাজও।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেডিএর অধিক্ষেত্র বড়। কিন্তু জনবল অনেক কম। পরিকল্পনাবিদও মাত্র হাতে গোনা, তিন থেকে চারজন। সে কারণে দীর্ঘ সময়েও দৃশ্যমান পরিকল্পিত উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে না। ভূমি ছাড়পত্র অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা তদারকির কাজও ঠিকঠাক হয় না। সবকিছু হচ্ছে বিশৃঙ্খলভাবে। তাই জনবল বাড়িয়ে গবেষণা অনুযায়ী পরিকল্পনা দরকার।

কেডিএতে পদোন্নতি সম্পর্কে এই নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ বলেন, মূল্যায়ন না করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা কাজ করাটা স্বাভাবিক। কাজে মনোনিবেশও আসবে না। একসময় চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবে। কারণ পদোন্নতি হচ্ছে তাদের অধিকার।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান কেডিএ। আধুনিক খুলনা ও পরিকল্পিত নগরায়ণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ১৯৬১ সালের ২১ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। সংস্থাটির অধিক্ষেত্র এখন ৮২৪ বর্গকিলোমিটার। যার উত্তর সীমানার মধ্যে রয়েছে নওয়াপাড়া পৌরসভা, পূর্বে অভয়নগর, দিঘলিয়া ও রূপসা উপজেলা, দক্ষিণে মোংলা পোর্ট পৌরসভা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে বটিয়াঘাটা উপজেলা ও পশ্চিমে ডুমুরিয়া উপজেলার কৈয়াবাজার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২১ সালের অর্গানোগ্রাম (জনবলকাঠামো) অনুযায়ী, কেডিএতে অনুমোদিত জনবল ৪৪৬টি। এর বিপরীতে বর্তমানে শূন্য রয়েছে ২৫২টি। ২০০৩ সালের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী, সংস্থার চেয়ারম্যান ও বোর্ড সদস্যরা ১৯৪ জনবল নিয়ে কাজ করছেন। এর মধ্যে চলতি দায়িত্বে ১৫ ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ২ জন।

কেডিএতে সবশেষ পদোন্নতি হয়েছিল ২০১২ সালে। এরপর দীর্ঘ ১২ বছর পদোন্নতি পাননি কেউই। এতে প্রধান প্রকৌশলীসহ দায়িত্বশীল ১৭ পদে চলতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চলছে কাজ। এ কারণে এক কর্মকর্তাকে নির্ধারিত পদে থেকে অন্য পদের বাড়তি কাজ করতে হচ্ছে। আবার কারও কারও অন্য পদে ভাসমান হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, ছয় মাসের বেশি চলতি দায়িত্ব প্রদানের প্রয়োজন হলে ছয় মাস অতিক্রমের আগে আবশ্যিকভাবে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি কমিটি বা বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু কেডিএতে এই নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটছে।

তারা আরও বলেন, ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অবসরে যাবেন। পদোন্নতি না হলে এসব পদে প্রেষণে জনবল আনা প্রয়োজন হবে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মকর্তারা অনেকে হতাশ হয়ে কাজে অনীহাও প্রকাশ করছেন। এতে সংস্থাটির উন্নয়নকাজ ঝিমিয়ে পড়ছে।

এ প্রসঙ্গে কেডিএর সহকারী প্রকৌশলী (চ.দা.) মো. ছানাউল্লাহসহ বেশ কয়েকজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে অবসরে যেতে হবে। কিন্তু চাকরিজীবনে পদোন্নতি জোটেনি। এখনো চলতি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। পদোন্নতি পেলে অন্ততপক্ষে মর্যাদা বৃদ্ধি পেত।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেডিএর সচিব মো. বদিউজ্জামান বলেন, ‘নিয়োগ ও পদোন্নতির কার্যত্রম চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবই হয়ে যাবে আশা করা যাচ্ছে।’

এ ব্যাপারে কেডিএর চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পদোন্নতি কেন হচ্ছে না, তা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। জনবল নিয়োগও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর বাইরে কিছু বলা সম্ভব না।’