শেষ কর্মদিবসে অবরুদ্ধ বুয়েট উপাচার্য

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি, সিলেকশন গ্রেড ও সিনিয়র স্কেল গ্রেড সংক্রান্ত ২০১৫ সালের নীতিমালা বাতিলের জের ধরে শেষ কর্মদিবসে তোপের মুখে পড়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্যপ্রসাদ মজুমদার। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার বিকেল থেকে তার কার্যালয়ের সামনে আন্দোলন করেন তারা।

গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে বলা হয়, গত বছর ১৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির ৫৫তম অধিবেশনের প্রস্তাব অনুযায়ী ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫৪০তম সভায় ওইদিনের পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের নীতিমালার মাধ্যমে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী পদোন্নতি, সিলেকশন গ্রেড ও সিনিয়র স্কেল প্রাপ্যতার জন্য বিবেচিত হবে না। সে ক্ষেত্রে এসব সুবিধা প্রদানে সরকারি ও সরকারি মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম প্রযোজ্য হবে।

এ অফিস আদেশ আসার পরই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, গত ছয় মাস আগে নেওয়া সিদ্ধান্ত ইচ্ছা করেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের জানায়নি। আজ (গতকাল) উপাচার্যের শেষ কর্মদিবস, তাই তিনি বাধ্য হয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো ধরনের বিকল্প নীতিমালা করা হয়নি তাদের জন্য। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বৈষম্যের মাত্রা বাড়বে।

বুয়েট কর্মচারী সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বুয়েটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি, সিলেকশন গ্রেড ও সিনিয়র গ্রেডের জন্য ২০১৫ সালে যে নীতিমালা করা হয়, সেটার রিভিউ করার জন্য ২০২১ সালে কমিটি করা হয়। আমরা জানতে পেরেছি যে, রিভিউ কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। কিন্তু বুয়েট কর্র্তৃপক্ষ তা কখনো প্রকাশ করেনি। গত বছর ডিসেম্বরে হওয়া সিন্ডিকেট সভায় এ রিপোর্ট অনুমোদিত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বরং ২০১৫ সালের নীতিমালা স্থগিত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পর আমরা বেশ কয়েকবার কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কর্র্তৃপক্ষ আমাদের জন্য নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিল। আমরা সে কথা বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু দায়িত্বের শেষ বেলায় এসে উপাচার্য আজ (গতকাল) দুপুর ১২টার পর ২০১৫ সালের নীতিমালা স্থগিত করে অফিস আদেশ দিয়েছেন। ফলে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’

এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে বসে। বৈঠকে উপাচার্য অফিস আদেশ বাতিলের সুপারিশ করলে রাত সাড়ে ৯টায় আন্দোলন বন্ধ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বুয়েট এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আন্দোলনের মুখে উপাচার্য এ আদেশ বাতিল করে নতুন নীতিমালা না হওয়া পর্যন্ত ২০১৫ সালের নীতিমালা চালু রাখার সুপারিশ করেছেন। আগামী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উত্থাপন করার জন্য উপ-উপাচার্যকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা আগামীকাল (আজ) কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব।’

বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের (ডিএসডব্লিউ) পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমিন সিদ্দিকী বলেন, ‘২০১৫ সালের একটি নীতিমালা বাতিল হওয়ার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করছেন। তবে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত।’ তবে এ বিষয়ে উপাচার্য সত্যপ্রসাদ মজুমদার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।