শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন দেশের শীর্ষ করদাতা কাউছ মিয়া। তিনি ১৯৩১ সালের ২৬ আগস্ট চাঁদপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষগণ তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের অধিবাসী ছিলেন।
১৯৪৫ সালে অষ্টম শ্রেণি পাস করে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হলে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের দামামায় আর পড়াশোনা এগোয়নি। কিশোর বয়সেই চাঁদপুর শহরে ব্যবসায়ী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন।
বাবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও ১৯৫০ সালে তিনি মায়ের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে চাঁদপুরের পুরান বাজারে মুদিদোকান দেন। এরপর ধীরে ধীরে ১৮টি ব্র্যান্ডের সিগারেট, বিস্কুট ও সাবানের এজেন্ট হন কাউছ মিয়া। ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি চাঁদপুরেই ব্যবসা করতেন।
১৯৭০ সালে নারায়ণগঞ্জে চলে আসেন কাউছ মিয়া; শুরু করেন তামাকের ব্যবসা। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ৪০-৪৫ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। যদিও তার মূল ব্যবসা ছিল তামাক বেচাকেনা। হাকিমপুরী জর্দার মালিক হিসেবে সারা দেশে পরিচিত তিনি; হাকিমপুরী জর্দার কৌটায় তার ছবি আছে।
১৯৫৮ সালে প্রথম কর দেন তিনি। ২০২১ সালে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, এখন তার বিভিন্ন ব্যবসা আর জায়গাজমি মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তামাকের ব্যবসা থেকেই মাথায় আসে জর্দা উৎপাদনের কথা। প্রথমে একটা ছোট কারখানা দিয়ে বাজারে ছাড়লেন 'শান্তিপুরী জর্দা', পরে সেটা নকল হতে থাকায় নতুন করে চালু করলেন 'হাকিমপুরী জর্দা' এই নাম দিয়ে, ১৯৯৬ সাল থেকে।
কাউছ মিয়া জানান, 'শান্তিপুর' বা 'হাকিমপুর' এসব নামকরণের পেছনে বিশেষ কোনো কারণ নেই। তবে হাকিমপুর নামটা লোকের মুখে সহজে আসে, সহজে বলতে পারে-এ জন্যই এই নাম রাখা।
তিনি জানান, তামাক ও জর্দার ব্যবসা থেকেই লাভ করেছেন চার-পাঁচশ কোটি টাকা। আর এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, কাউছ মিয়া প্রতিবছর ৪৫ থেকে ৫০ কোটি টাকা কর দেন।
গতকাল সোমবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি স্ত্রী, আট ছেলে ও আট মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। ২০২২-২৩ করবর্ষে ‘ব্যবসায়ী’ শ্রেণিতে এই ব্যবসায়ী সেরা করদাতার সম্মাননা পেয়েছেন। ফলে টানা ১৫ বছর সেরা করদাতা নির্বাচিত হলেন এই প্রবীণ ব্যবসায়ী।