চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে মারধর ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ ৬ জনের নামোল্লেখ করে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাতে অভিযোগটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী মো. অছিউদ্দিন। তিনি উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।
আসামিরা হলেন জুলধা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও জুলধা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নুরুল হক চৌধুরী (২৯), মো. ইকবাল (৩৩), হাছি মিয়া (৩৯), গফুর (৫০), মো. জাবেদ (৩২) ও মো. নবী আলম (৩৫)। এদের মধ্যে গফুর ও জাবেদের বাড়ি শিকলবাহা এবং বাকি চারজনের বাড়ি জুলধা ইউনিয়নে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম রবিবার রাতে জুলধা পাইপের গোড়া বাজার থেকে বাড়িতে যাওয়ার সময় নুরুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে ৬-৭ জন লোক তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। পরে ধস্তাধস্তিতে অছি উদ্দিন গাড়ি থেকে নামতে সক্ষম হলেও ইকবাল নামের এক যুবক তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর মোবাইল ও নগদ ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে অছি উদ্দিনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
অভিযোগকারী অছি উদ্দিন বলেন, ‘রবিবার রাতে নুরুল হক মেম্বারের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক আমাকে মারধর করে সিএনজিতে তুলে অপহরণের চেষ্টা করে। আমি থানায় অভিযোগ করেছি। কেননা এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আমি কোনো রকমে প্রাণে রক্ষা পাই।’
অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য ও ছাত্রলীগ নেতা নুরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘যখন ঘটনা হয়েছিল তখন আমি আনোয়ারার চাতরী-চৌমুহনী বাজারে ছিলাম। কেন অভিযোগে আমার নাম দিলেন বুঝতে পারছি না।’
একই ঘটনায় অভিযুক্ত হাছি মিয়া বলেন, ‘ঘটনার সময় ওই জায়গায় আমি ছিলাম। তাই ওরা আমার নামে অভিযোগ দিয়েছে। তবে ওই ঘটনার সাথে আমার সম্পৃক্ততা নেই।’
শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই আবু ছৈয়দ রানা বলেন, ‘অছি উদ্দিন নামে একজন অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকায় অর্থ প্রতিমন্ত্রীর অনুসারীরা এক আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। এতে মিছিলের সামনে আসা নুরুল হক চৌধুরী ও জি এম কিবরিয়ার সাথে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। মূলত এর রেশ ধরেই জুলধা বাজারে ঘটনাটি ঘটে।