কারাগারের মধ্যেই উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বিয়ে করেছিলেন স্টেলা মরিসকে। ২০২২ সালের ২৩ মার্চ তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু অ্যাসাঞ্জের কাছ থেকে এখনও সংসারের সুখ পাননি স্টেলা। তাই অ্যাসাঞ্জের কারামুক্তি জীবনকে আবার নতুন করে উপভোগ করার আশা জাগিয়েছে। নতুন অধ্যায় শুরু করাটাই এখন দুইজনের চাওয়া বলে জানান উইকিলিক্স প্রতিষ্ঠাতার স্ত্রী।
অ্যাসাঞ্জের কারামুক্তির পর বিবিসি রেডিও ফোর টুডেকে স্টেলা বলেছেন, স্বামীর মুক্তির খবরে তিনি উচ্ছ্বসিত। তার কাছে এ মুক্তি বিস্ময়কর। ৫ বছর ধরে অ্যাসাঞ্জ এক ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে ছিলেন। তারা স্বাভাবিক জীবন কখনও উপভোগই করতে পারেননি। এখন অ্যাসাঞ্জের কারামুক্তি জীবনকে আবার নতুন করে উপভোগ করার আশা জাগিয়েছে। নতুন অধ্যায় শুরু করাটাই এখন তাদের দুইজনেরই চাওয়া।
তবে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে স্টেলার মধ্যে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বিচারকের সঙ্গে আসাঞ্জের চূড়ান্তভাবে চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি চিন্তায় থাকবেন। গত পাঁচ বছর ধরে ব্রিটেনের বেলমার্শ কারাগারে বন্দি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন অ্যাসাঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপস রফায় পৌঁছানোর পর তিনি মুক্ত হয়ে যুক্তরাজ্য ছেড়েছেন।
আর এই বেলমার্শ কারাগারেই বিয়ে হয়েছিল অ্যাসাঞ্জ ও স্টেলার। উচ্চ নিরাপত্তার এই কারাগারে অনুষ্ঠিত বিয়েতে মাত্র চারজন অতিথি অংশ নেয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন। এর বাইরে উপস্থিত ছিলেন দুজন সাক্ষী ও দুজন নিরাপত্তাকর্মী। ২০২১ সালের নভেম্বরের শুরুতে বন্দি অ্যাসাঞ্জকে কারাগারে বাগদত্তা ৩৮ বছর বয়সী স্টেলা মরিসকে বিয়ে করার অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত গুপ্তচরবৃত্তির মামলার আসামি। ২০১২ সাল থেকে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে জামিনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাজ্য পুলিশ। তখন থেকে বেলমার্শ কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি।
অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলায় যে ১৮টি অভিযোগ আনা হয়েছিল, চুক্তি অনুযায়ী তার একটিতে দোষ স্বীকার করে নেবেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা। বুধবার সেই আইনি প্রক্রিয়া সারা হবে নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডসের একটি আদালতে। এ প্রক্রিয়া শেষের পরই আসাঞ্জ অস্ট্রেলিয়ায় ফিরবেন।