যেকোনো ক্ষতি প্রতিহত করা

হজরত উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ফায়সালা দিয়েছেন যে, অনুমোদিত নয় নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং অন্যকেও।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ) হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে, ‘ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সহ্যও করা যাবে না। যে অন্যের ক্ষতি করল আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন এবং যে তার সঙ্গে শত্রুতা করবে আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন।’ (সুনানে দারাকুতনি)

বর্ণিত হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিনদের সর্বপ্রকার ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসের শিক্ষা হলো, মুমিন নিজেকে যেমন ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে, তেমনি অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকবে। মোল্লা আলী কারি (রহ.) বলেন, ‘এই কথা স্পষ্ট যে শারীরিক, আর্থিক, পার্থিব ও পরকালীন সব ধরনের ক্ষতি এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।’ (মিরকাতুল মাফাতিহ)

ইমাম মালিক (রহ.) বলেন, ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি হলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতি দূর করা। এর ভিত্তি হলো হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী ‘অনুমোদিত নয় নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং অন্যকেও।’ কেননা ইসলামি শরিয়তের ভিত্তি রাখা হয়েছে ‘কল্যাণ লাভ’ ও ‘ক্ষতি প্রতিহত’ করার ওপর। এই নীতির অন্তর্ভুক্ত বিধান হলো ক্ষতির সম্ভাবনা দূর করা এবং ক্ষতি অপরিহার্য হলে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর বিষয়টি বেছে নেওয়া। (ইসালুস সালিক ফি উসুলিল ইমাম মালিক)

উল্লিখিত হাদিসের আলোকে হাদিস বিশারদরা কয়েকটি শাখাগত বিধান বর্ণনা করেছেন। তা হলো এক. ক্ষতিকর ও হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে নিজেকে ক্ষতির মধ্যে ফেলে দেওয়া হারাম। দুই. অন্যের ক্ষতি করা নিষিদ্ধ। তিন. জীবন, সম্পদ, পরিবার ও সম্ভ্রমের ক্ষেত্রে সব ধরনের ক্ষতিকর বিষয় পরিহারযোগ্য। চার. ইসলামি শরিয়তের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ক্ষতি হওয়ার আগে প্রতিহত করা এবং ক্ষতি হয়ে গেলে তা দূর করা। পাঁচ. ইসলামি শরিয়তের সাধারণ বিধান হলো ক্ষতিকর বিষয় নিষিদ্ধ।