বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ উচিত

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আগে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে এ কথা বলেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বাজেট অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, দুর্নীতি সরকারের সব অর্জন মøান করে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বারবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। তারপরও দুর্নীতি দমন করতে পারেনি বা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। আজকে বাজারে অস্থিতিশীল দেখা যায়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়। বাজার কখনো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না, যদি বাজারে দুর্নীতির অবাধ প্রবাহ থাকে, সেটি কখনো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘একটা গরু ১ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে। যার মাংস হবে ১ হাজার ৪০০ কেজি। প্রতি কেজি ৭ হাজার টাকা করে। এটা কারা কিনল? বৈধ উপায়ে আয়ে এটা কিনতে পারে না। একটা ছাগল কিনল ১৫ লাখ টাকা দিয়ে। এটা কারা করতে পারে। যাদের অবৈধ আয় আছে তারা। বৈধ আয়ে কখনো টাকা পানিতে ফেলতে পারে না।’

১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগের বিরোধিতা করে হানিফ বলেন, ‘আমি বৈধভাবে আয় করলে ৩০ শতাংশ কর দিতে হয়, আরেকজন অবৈধ, অপ্রদর্শিত আয় করে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করবে এটাকে যৌক্তিক মনে করি না।’ এ ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিএনপি পাকিস্তানের কাছে দেশ বিক্রি করে দিত : শেখ সেলিম

বিএনপি সুযোগ পেলে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের কাছে বিক্রি করে দিত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি বলেন, বিএনপি বলে শেখ হাসিনা নাকি দেশ বিক্রি করছে। আওয়ামী লীগ কোনোদিন দেশ বিক্রির রাজনীতি করে না। বঙ্গবন্ধু কারও কাছে দেশ বিক্রি করেননি। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারও কাছে দেশ বিক্রি করা তো দূরের কথা, এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিন্দুমাত্র নস্যাৎ হবে, সেটা বঙ্গবন্ধুর মেয়ে কখনো মানবেন না।

গতকাল জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির নেতারা ভারতের কথা বলে বিভিন্ন সময়, তারা ভারতের পণ্য বর্জন করতে বলছে। ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। নিত্যপণ্যসহ দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছু আমাদের ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। চীন ও আমেরিকা পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও তারা পণ্য বর্জনের কথা বলেনি। বিএনপির উচিত হবে সবার আগে তাদের ঘরে ভারতীয় যে পণ্য আছে তা বর্জন করা।’