একদিকে সভাপতি অন্যদিকে সম্পাদক

রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দ্বিধাবিভক্তি এখন স্পষ্ট। জাতীয় কিংবা দলীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসের প্রতিটিতেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলাদা আলাদা অনুষ্ঠান করেন। গত ২৩ জুন দলের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও জেলা ও মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পৃথকভাবে পালন করেছেন। এসব কর্মসূচিতে উপস্থিতও ছিলেন তাদের সমর্থিত এমপি ও নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে নগরীর কুমারপাড়ার আওয়ামী লীগের মহানগর কার্যালয়ে। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামালের নেতৃত্বে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা হয়। একই জায়গায় সকাল ৯টায় শহীদদের স্মরণে এবং বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ১ মিনিট নীরবতা পালন করে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের নেতৃত্বে একটি পক্ষ। পরে বেলা ১২টায় দলীয় কার্যালয় ও সাহেব বাজার বড় মসজিদের সামনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রমজীবী ও অসহায়দের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করেছেন ডাবলু সরকার।

এদিকে রাজশাহী কলেজে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল ওয়াদুদ দারা। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) মিলনায়তনে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।

একই দিন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অনিল কুমারসহ দলের বেশ কিছু নেতা নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং কেক কেটেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আসাদুজ্জামান আসাদ এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।  

রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল গ্রুপিংয়ের বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। তিনি বলেন, এটা নিঃসন্দেহে খারাপ। কিন্তু আমি এটাকে পক্ষ মনে করি না। কারণ আমাদের বিপক্ষে যারা তাদের সঙ্গে তো কেউ  নেই। মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ কেউ তো নেই তাদের সঙ্গে। কাজেই এটা আমি কিছু মনে করি না। এটা হতেই পারে, বড় দল। আগামী সম্মেলনেই এই বিভাজন শেষ হয়ে যাবে।

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, উনারা (অপর পক্ষ) লিটন ভাইয়ের অনুসারী। লিটন ভাইয়ের সঙ্গে আমার গ্রুপিং করিয়ে দিয়েছে যে লিটন গ্রুপ আর ডাবলু গ্রুপ। সভাপতি লিটন ভাইয়ের গ্রুপে আছে, ওরা লিটন ভাইকে নিয়ে আলাদা প্রোগ্রাম করে। আমি আমার মতো করেই আলাদা প্রোগ্রাম করি।

বিভাজন নির্মূল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি কেন্দ্রে জানিয়েছি। কেন্দ্র বলেছে তারা ঢাকা থেকে এসে নিরসন করবেন, এখনো আসেননি। হয়তো তারা এসে সিদ্ধান্ত নেবেন।  রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবু অনিল কুমার বলেন, একটু মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন যেখানে মতানৈক্য আছে সেগুলো সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে মিটমাট করে দেবেন। সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে যা যা করণীয় করবেন, এটাই মূল কথা।

এ ব্যাপারে মন্তব্য নিতে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল ওয়াদুদ দারাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও রিসিভ করেননি।