কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই কার্যালয় বানিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের জায়গায় এই কার্যালয়টি তৈরি করা হয়েছে। অথচ হল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। গত এক বছর যাবৎ অনুমোদন ছাড়াই কার্যালয় বানিয়ে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত ও সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের নেতৃত্বে এই কার্যালয়টি তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের নিয়মকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
এস্টেট অফিসের নিয়ম বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কোনো অবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্যই কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন থাকতে হবে। লিখিত অনুমোদন ছাড়া অবকাঠামো তৈরির বিধান নেই। কিন্তু এই নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি। এছাড়াও হল এলাকায় কোন স্থাপনা তৈরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রেও নিয়মের ব্যতয় ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘এটি হলের জায়গায় তৈরি করা হলেও অনুমোদন নেওয়া হয়নি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এস্টেট অফিসের পরিচালক শামসুল ইসলাম জোহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কার্যালয় বানানোর ক্ষেত্রে লিখিত কোন আবেদন আমরা পাইনি। এ সংক্রান্ত অনুমোদনও আমরা দেইনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তারা মৌখিক অনুমোদন নিয়েছিল এটা শুনেছিলাম। কতটুকু সত্য সেটা জানিনা।’
আপনার দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই কার্যালয় বানানো উচিত কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘এটা উচিত হয়নি।’
বিষয়টি নিয়ে প্রগতিশীল অন্য ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্পষ্টত এটি নিয়মের ব্যতয়। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যস্তরে একক ছাত্র সংগঠনের দলীয় কার্যালয় থাকতে পারে না। থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত প্রগতিশীল সকল ছাত্র সংগঠনের দলীয় কার্যালয় তৈরি করে দেওয়া। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটা হয়নি। যা পুরোপুরি নিয়মের বাইরে গিয়ে করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘কার্যালয় তৈরিতে নিয়মের ব্যতয় হয়নি। এছাড়াও অস্থায়ীভাবে টিন দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। কার্যালয়ের কাজ এখনো শেষ হয়নি। আমরা উদ্বোধনও করিনি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের কাছে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘আমি এই সংক্রান্ত কোন কিছুর অনুমোদন দেইনি। এ সম্পর্কে আমার জানা নেই। এসেস্ট অফিসের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারবো।’