ছাগলকাণ্ডে আলোচনায় আসার পর একে একে সবই হারাচ্ছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা মতিউর রহমান। তছনছ হয়ে গেছে তাঁর সাজানো বাগান। ছেলের ছাগলকাণ্ডে প্রথমেই তাকে এনবিআর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। হারিয়েছেন সোনালী ব্যাংকের পরিচালকের পদও। মঙ্গলবার ফ্রিজ করা হয়েছে তাঁর বিভিন্ন ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের বিও অ্যাকাউন্ট। দেওয়া হয়েছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা। এমন পরিস্থিতে আত্মগোপনে রয়েছেন মতিউর। শোনা যাচ্ছে, মাথা ন্যাড়া করে দেশ ছেড়ে ভারত পালিয়েছেন তিনি। সেখান থেকে দুবাই চলে যাবেন। আবার কেউ বলছে দেশেই আত্মগোপনে আছেন; পরিস্থিতি বুঝে চম্পট দেবেন বিদেশে নতুবা আসবেন প্রকাশ্যে।
এদিকে একইধরণের টালমাটাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাঁর পরিবারেও। দুই স্ত্রীর প্রথমজন লায়লা কানিজ লাকি। তিনি বর্তমানে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক। তাঁর এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মতিউর আলোচনা আসার পরপরই গা ঢাকা দিয়েছেন প্রথম স্ত্রী। ঈদের পর থেকে তিনি উপজেলা পরিষদের অফিসে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। নেই বসুন্ধরার বাসায়। কোথায় আছেন, তা তার ঘনিষ্ঠজনরাও বলতে পারছেন না। প্রথম পক্ষের ছেলে আহমদ তৌফিকুর রহমানও পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন না। বন্ধুবান্ধব কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না।
অন্যদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিভলীরও দুই সন্তান। এরমধ্যে ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত ছাগল কিনে এই আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। এই ঘটে একটি মেয়েও আছে মতিউরের। মেডিকেল কলেজের ছাত্রী ওই মেয়ের নাম মাধবী। তাদের মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পাঠিয়ে দিয়েছেন মতিউর। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন মতিউর। সেখানে চরম দুশ্চিন্তা ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত দুই দফা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। একদিকে ইফাত মানসিক যন্ত্রণার কথা বলে তাঁর স্ত্রীকে মালয়েশিয়া উড়িয়ে নিতে চাপ দিচ্ছেন মাকে, অন্যদিকে মতিউরের বোন ফোন করে ডিভোর্স লেটার পাঠাতে হুমকি দিচ্ছেন দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মীকে।
এছাড়া মতিউরের ভাইয়েরাও আত্মগোপনে আছেন। তার ছোটো ভাই এম কাইয়ুম হাওলাদার টঙ্গীর এসকে ট্রিম অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে কারখানায় যাচ্ছেন না। থাকছেন না বাড়িতেও। আরেক ভাই নূরুল হুদাও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন না। যারা বিভিন্ন সময় মতিউর রহমানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন, সেই শুভাকাঙ্ক্ষীরাও নিরাপদ দূরত্বে চলে গেছেন।
প্রথম স্ত্রী রায়পুরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ ও তার সন্তানরা আজকের এ পরিস্থিতির জন্য দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী-সন্তানদের দায়ী করছেন। একই সঙ্গে স্বামীকে ডিভোর্স দিতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে চাপ দিচ্ছেন মতিউরের বোন।
প্রসঙ্গত, ১৬ জুন রাতে দেশ রূপান্তরের অনলাইন ও ডিজিটাল সংস্করণে ‘রাজস্ব কর্মকর্তার ছেলের অর্ধকোটির কোরবানি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা আলোচনায় আসে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক তরুণ ১২ লাখ টাকায় একটি ছাগলসহ অর্ধকোটি টাকার কোরবানির পশু কেনেন। এই তরুণের অর্থের উৎস জানতে গিয়ে জানায় যায়, ইফাত রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রীর বড় সন্তান।