সরকারের রাজস্ব ক্ষতি নিয়ে চিন্তায় থাকতেন মতিউর!

রাজস্ব নিয়ে যত চিন্তা সব যেনো ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের। সব সময় চিন্তা করতেন কীভাবে বাড়ানো যাবে সরকারের রাজস্ব আদায়। এমনই তথ্য জানিয়েছেন তার সঙ্গে কাজ করা একাধিক ব্যক্তি। 

সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি নিজের পকেট ভারি করাতেও যে ব্যস্ত ছিলেন এই কর্মকর্তা তা বুঝা যায় তার গড়ে তোলা অবৈধ সম্পদের পাহাড় দেখেই। সেই কথাও জানিয়েছেন তার সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তি। 

দেশ রূপান্তর প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় মতিউর রহমানের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তির। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, ‘স্যার সব সময় বলতো যেভাবেই হোক সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। সেটা যেভাবেই হোক। তোমরা আমাকে সহযোগিতা করো। এতে সকলেরই উপকার হবে। 

অন্য আরেক ব্যক্তি বলেন, মতিউর রহমান জোর করে বাড়তি টাকা আদায় করতেন। যেখানে একটা বড় অংশ তার পকেটেই যেতো। আর তার ব্যত্যয় হলে ব্যবসায়ীদের বিপদের মুখোমুখি পড়তে হতো।

সূত্র বলছে, মতিউর বাড়তি অর্থ আদায় করতেন না। মতিউর মূলত ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে রাজস্ব পরিমাণ কমিয়ে বাকী অংশ নিতেন নিজের জিম্মায়। আর সেই অর্থেই পরিবারের খরচ মিটিয়ে বানিয়েছেন সম্পদের সাম্রাজ্য। যে সাম্রাজ্যে স্ত্রীর ভাই থেকে শ্বাশুড়ি কেউই বাদ যাননি।  

শ্বাশুড়িকে বাড়ি, শ্যালকের নামে বাড়ি। আর নিজের ছোট ভাইকেও করেছেন বিত্তশালী সঙ্গে পরিচয় হিসেবে জুড়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ী পরিচয়। একাধিক প্রতিষ্ঠান আর শেয়ার বাজার তো রয়েছেই। মতিউর সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় নিজের নামে সব না করে অনেক জায়গায় ব্যবহার করেছেন ভাইকে। এর বাইরে দুই পক্ষের স্ত্রী সন্তানদের নামেও কিনেছেন জমি, করেছেন শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারী। আর নামী দামি ব্রান্ডের গাড়ির শখ পূরণ করেছেন। 

বাবা, স্বামী, ভগ্নিপতি আর শ্বাশুড়ির দায়িত্বশীল জামাই হয়ে উঠলেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসে মতিউর কি করেছেন? এমন প্রশ্ন সামনে আসলে দেখা যায় ক্ষমতার ব্যবহার করে তার সম্পত্তির পাহাড়। যা এখন সংবাদের শিরোনাম। 

গত ১৬ জুন ঈদের আগের দিন দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার অনলাইন ও ডিজিটাল বিভাগে ‘রাজস্ব কর্মকর্তার ছেলের অর্ধকোটির কোরবানি' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ পেলে সামনে আসতে শুরু করে মতিউর রহমানের অনিয়মে গড়া সম্পদের হিসেব। যার কারণে খোয়া গেছে রাজস্ব বোর্ডের সদস্য পদ আর সঙ্গে হারিয়েছেন সোনালী ব্যাংকের পরিচালকের পদও। আর সবশেষে দেশ ছাড়ার নিষেধাজ্ঞা আসার পর থেকেই লাপাত্তা মতিউর রহমান ও তার পরিবার। এর মধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন ১২ লাখ টাকায় ছাগল কেনা মুশফিকুর রহমান ইফাত ও তার মা।