আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে সংগতি রেখে আমদানিকৃত ফিনিশড লুব্রিকেন্টের শুল্কায়ন নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে লুব্রিকেন্টস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ জমসের আলী।
সংগঠনটি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি টন ফিনিশড লুব্রিকেন্টের ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ধরা হয়েছে মিনারেলের ক্ষেত্রে ৩ হাজার ডলার এবং প্রতি টন সিনথেটিক লুব্রিকেন্টস অয়েলের ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ধরা হয়েছে ৫ হাজার ডলার। অথচ ফিনিশড এবং সিনথেটিক লুব্রিকেন্টসের প্রকৃত বাজারমূল্য ১ হাজার ৭০০ ও ২ হাজার ডলার। এ হিসাবে প্রস্তাবিত বাজেটে ফিনিশড লুব্রিকেন্টসের শুল্কায়ন মূল্য ৭০ শতাংশ এবং সিনথেটিক লুব্রিকেন্টসের শুল্কায়ন মূল্য ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ প্রস্তাব পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকৃত মূল্য দুই হাজার ডলার নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছে লুব্রিকেন্টস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।
লুব্রিকেন্টস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, দেশে বার্ষিক প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টন লুব্রিকেন্টসের চাহিদার মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ ফিনিশড লুব্রিকেন্টস জোগান দিয়ে আসছে আমদানিকারকরা। এই সেক্টর প্রতি বছর সরকারের রাজস্ব খাতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অবদান রাখছে।
সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ জমসের আলী বলেন, শুল্কায়ন মূল্য অতিরিক্ত বাড়িয়ে নির্ধারণ করায় বা ওভার ইনভয়েস সুযোগ থাকায় ডলার পাচার নিশ্চিতভাবে বাড়বে।
এছাড়া অতিরিক্ত শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের কারণে পরিবহন, বিদ্যুৎ,
কৃষি উৎপাদন ও গার্মেন্টস শিল্পে খরচ বৃদ্ধি পাবে। যে কারণে সরকারের বর্তমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ চেষ্টা নিশ্চিতভাবে ব্যর্থ হবে। লুব্রিকেন্টসের মূল্য বাড়লে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে
সব নিত্যপণ্য সামগ্রীতে। বিদ্যুতের
দাম বাড়বে, এতে উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাবে ফলে পণ্যসামগ্রীর মূল্যও বৃদ্ধি পাবে।