টাঙ্গাইলের কালিহাতীর সাব-রেজিস্ট্রার মো. খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেলের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের বিনিময়ে রাতেও দলিল করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অপর দিকে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের নামে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ঘুষের টাকা নিয়ে দেলদুয়ারে তার সাথে দলিল লেখকদের হাতিহাতিও হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষের হস্তক্ষেপ ও তাকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন সেবা গ্রহীতারা।
অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে গত ১৩ মে ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যে ১০ শতাংশ জমি সাব কওলা রেজিস্ট্রি করা হয়। এরকম অনেক কাজই তিনি ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে করে থাকেন।
কালিহাতী দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম সরকার বলেন, মো. খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেল কালিহাতী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদানের পর থেকে দাতা—গ্রহীতাদের প্রতিটি দলিল রেজিস্ট্রিতে সরকারি উৎসে করের সমপরিমাণ অর্থ দাবি করছে। ওই পরিমাণ অর্থ না দিলে তিনি কোনো দলিল রেজিস্ট্রি করেন না। এজন্য উপজেলায় বিভিন্ন প্রকার দলিল রেজিস্ট্রির হার অর্ধেকে নেমে এসেছে। এছাড়া তিনি দলিল লেখক এবং দাতা গ্রহীতাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন। তিনি প্রকাশ্যে দলিল প্রতি অর্থ দাবি করেন। অন্যথায় দলিল সম্পাদন বন্ধ রাখেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ঘুষ, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ এনে মো. খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেলের প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা দলিল লেখক কল্যাণ সমিতি। এ সময় সাব—রেজিস্ট্রার মো. খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেলের পক্ষে কর্মচারী আরতি রানীর বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন দলিল লেখকরা।
ঘুষ লেনদেন ও দুর্নীতির বিষয়ে সাংবাদিকরা বক্তব্য নিতে গেলে সাব রেজিস্ট্রার খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেল দরজা বন্ধ করে দিতে বলেন। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সাংবাদিকরা তার এজলাসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচিতে কালিহাতী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা অংশ নেন।
সাংবাদিকরা জানান, সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মচারী আরতি রানীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তার সপক্ষে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গেলে সাব রেজিস্টার খাইরুল বাশার ভূইয়া পাভেল উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনারা এখানে প্রবেশ করেছেন কেন? মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুমতি নিয়ে আপনারা এখানে প্রবেশ করবেন। এছাড়াও রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধন হতে পারে বলে তিনি হুমকি দেন। এক পর্যায়ে কর্মচারীদের গেইট বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরে তার নির্দেশ মোতাবেক কর্মচারীরা গেইট বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা অবরুদ্ধ হন। কিছুক্ষণ পরে গেইট খুলে দেন।
গত বুধবার দুপুরে কালিহাতীর সাব-রেজিস্ট্রার মো. খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেলকে প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে প্রেসক্লাবের সদস্যরা। এতে প্রেসক্লাবের সভাপতি রঞ্জন কৃষ্ণ পন্ডিত, কালিহাতী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মুশফিকুর মিল্টনসহ অন্যান্য সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, দুর্নীতিবাজ সাব-রেজিস্টার খাইরুল বাশার ভূইয়া পাভেল সিন্ডিকেট করে ঘুষ লেনদেন করেন। এছাড়াও জমির শ্রেণি পরিবর্তনের নামে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন তিনি। ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত এবং তার শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
দেলদুয়ার উপজেলা দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন মোর্শেদ বলেন, ২০২১ সালের শেষের দেলদুয়ারে সাব রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেছিলেন মো. খায়রুল ইসলাম বাশার ভূঁইয়া পাভেল। তিনি আড়াই বছর দেলদুয়ারের দায়িত্ব পালনকালে তার ঘুষ লেনদেনের অত্যাচারে সাধারণ গ্রাহক ও দলিল লেখকরা অতিষ্ঠ। তার সাথে ঘুষের টাকা নিয়ে কয়েক জনের সাথে হাতাহাতিও হয়েছে।
জেলা দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন রশিদ আকন্দ সোনা বলেন, ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে সাব রেজিস্ট্রার মো. খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেলকে নিয়ে দেলদুয়ার ও কালিহাতীতে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। আমরা তার প্রত্যাহার দাবি করছি।
অভিযুক্ত কালিহাতীর সাব-রেজিস্ট্রার মো. খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেল বলেন, একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলেও তিনি জানান।
জেলা রেজিস্ট্রার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টির বিস্তারিত আমার জানা নেই।