পছন্দ করুন আর না-ই করুন, ১২ গজের এ স্নায়ুযুদ্ধ এখনকার ফুটবলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরও বিশেষ করে বললে- আসরের নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে। ২০২২ বিশ্বকাপ, ২০২১ আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস, ২০২০ ইউরো এবং ২০১৬ কোপা আমেরিকা- ফুটবলের এ প্রত্যেকটি বৈশ্বিক আসরের ফাইনাল ম্যাচের মীমাংসা হয়েছে ১৯৭০ সাল থেকে ফুটবল আইনে যোগ হওয়া ট্রাইব্রেকার বা পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে।
আজ থেকে মাঠে গড়াচ্ছে এবারের ইউরোর নকআউট পর্ব- রাউন্ড অফ সিক্সটিন। প্রথম ম্যাচেই বার্লিনে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইতালির মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড। গত আসরের শেষ ষোলোর ম্যাচে ৩-৩ গোলে টাই করার পর পেনাল্টি শুটআউটে ফ্রান্সকে হারিয়ে দিয়েছিল দেশটি। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড আবার সেই শুটআউটেই হেরে গিয়েছিল স্পেনের কাছে। ডাচ কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রইফও মনে করতেন নকআউট ম্যাচের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে শুটআউটের মতো পরিস্থিতির চাপ সামলানো সহজ নয়। তাই এ বিষয়ে আগে থেকেই দলকে প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
গত বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং গত ইউরোর শেষ ষোলোয় শুটআউটে হেরে বাদ পড়ার পর ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনও তাদের কোচ দিদিয়ের দেশমকে এই বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে জোর দেয়। এ পর্যন্ত ইউরোর ইতিহাসে ২২টি শুটআউট ঘটনা ঘটেছে। ২৩২টি শটের মধ্যে ১৭৮টিতে এসেছে গোল, অর্থাৎ সফলতার হার ৭৬.৭ শতাংশ। যা মিলে গেছে বৈশ্বিক গড়ের সঙ্গে। শুটআউট সম্পর্কিত পরিসংখ্যানিক বিজ্ঞান অনুযায়ী একটি পেনাল্টি শুটের সফলতার সম্ভাবনা ০.৭৬ শতাংশ। যার মানে ১০০টি শুট নেওয়া হলে তার মধ্যে ৭৬টি খুঁজে পাবে জালের ঠিকানা।
এমনকি শুটআউটের সময় একটি দল প্রথমে না পরে শট নেবে এর উপরেও নির্ভর করে সফলতার হার। গত ১১ বছরের ইউরোপিয়ান ফুটবলের তথ্য নিয়ে করা সাম্প্রতিক গবেষণায় এসেছে আগে শট নেওয়া দলের সফলতার সম্ভাবনা ৪৮.৮৩ শতাংশ। নওয়েজিয়ান স্কুল অফ স্পোর্টস সায়েন্স এর অধ্যাপক গিয়ের জরডেটের মতে যা কমে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ হারে। আগের গবেষণায় এ হার ছিল প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি।
গতবারের ইউরোতে নকআউট পর্বের চারটি ম্যাচের ফয়সালা হয়েছিল পেনাল্টি শুটআউটে। আজ রাত থেকে শুরু হয়ে যাওয়া শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোর আগে এ বিষয়টি মাথায় রেখে নিশ্চয়ই প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে দলগুলো।