কালো টাকা সাদা করা নিয়ে যা বললেন জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলের নেতা জি এম কাদের বলেছেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিলে অর্থনীতিতে চলমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে। এ সময় তিনি প্রস্তাব দেন কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিতে হলে, ৫০ শতাংশ করারোপ প্রয়োজন। 

২০২৪-২০২৫ সালের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আজ শনিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জিএম কাদের এসব কথা বলেন। 

কালো টাকা সাদা করা প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, ব্যবসায়ীরা বিপুল অঙ্কের আয়কর ফাঁকি দেন, তারা ভুল করে কর ঠিক মত দেননি, এটা সম্পূর্ণ ভুল। ভুল করে যারা আয়কর দেন না তার ধরা পড়েন ও খেসারত দেন। যারা ইচ্ছা করে আয়কর ফাঁকি দেন তারা হিসাব-নিকাশ করেই তা করেন ও সে জন্যই তারা ধরা পড়েন না। সমস্যা হলো, স্বাভাবিকভাবে বৈধ আয়ের উপর করের হার বিভিন্ন স্তরে ভিন্নতর করলেও সর্বোচ্চ ৩০%, সেখানে অবৈধ আয়ের উপর ১৫% কর দিলেই বৈধ হওয়ার যেমন অনৈতিক তেমন যুক্তিসঙ্গত নয়। যার জন্য খোড়া যুক্তি দিতে হয়। 

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ খুব বেশি অঙ্কের রাজস্ব আসে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কালো টাকা সাদা করার এ সুযোগ তেমন কেউ গ্রহণ করবে না আর রাজস্ব আদায়ে বেশি কোন ভূমিকা রাখবে না। এ ধারণা বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের হলেও এবার কিছুটা ব্যতিক্রম হতে পারে বলে ধারণা করি। এবারের আইনে ব্যাপকভাবে অন্যান্য বারের চেয়ে বেশি পরিমাণে দায়মুক্তি দিয়ে সব ধরনের আইনের আওতামুক্ত করা হয়েছে অবৈধ আয়কে। ১৫% কর পরিশোধ করলে কোন কর্তৃপক্ষ কোন প্রকারের প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না। এ ধরনের ঢালাওভাবে অবৈধ কাজকে দায়মুক্তি দিয়ে আইনসিদ্ধ আগে কখনও করা হয়নি।

জি এম কাদের বলেন, প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থ-বছরের বাজেট একটি গতানুগতিক বাজেট। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এ বছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনেক বেশি সঙ্কটময় বলা যায়। সারা বিশ্বে কম বেশী অর্থনৈতিক মন্দা ও যা থেকে প্রায় দেশই উত্তরণের পথে। কিন্তু আমাদের ক্রমাবনতি চলমান। সে প্রেক্ষিতে, আমাদের দেশের চরম অর্থনৈতিক দুর্দশা আমলে নিয়ে সে অনুযায়ী কোন দিক-নির্দেশনা বা উদ্দ্যোগ এ বাজেটে লক্ষ্য করা যায় না। সবগুলো না হলেও কিছু কিছু সমস্যা বাজেটে চিহ্নত করার প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু বাজেট প্রণয়নে বরাদ্দ, রাজস্ব আহরণে যে কর প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে করে চিহ্নিত সমস্যাসমূহ সমাধানের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা বৃদ্ধি করবে।