গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। একদিনে ভর্তি রোগীর এই সংখ্যা গত পাঁচ মাস ১১ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে একদিনে এর চেয়ে বেশি ৬২ রোগী ভর্তি হয়েছিল গত ৮ জানুয়ারি।
ইতিমধ্যেই চলতি জুনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা গত মাসকে ছাড়িয়ে গেছে। এ মাসের গত ২৯ দিনে ৭৫৪ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সে হিসাবে এ মাসে গড়ে প্রতিদিন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৬ জন। গত মে মাসে ভর্তি হয়েছে ৬৪৪ জন ও দৈনিক গড় রোগীর সংখ্যা ছিল ২১ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০ রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে ভর্তি হয়েছে ১৯ ও উত্তর সিটিতে ১১ জন। এরপর ১৮ জন চট্টগ্রাম বিভাগে, ছয়জন ঢাকা বিভাগে, চারজন খুলনা বিভাগে ও একজন করে বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভর্তি হয়েছে।
নতুন রোগীদের মধ্যে ৪৫ জন বা ৭৫ শতাংশ পুরুষ ও ১৫ জন বা ২৫ শতাংশ নারী। এসব রোগীর মধ্যে ০-১০ বছর বয়সী শিশু ১৪ জন ও ১১-১৫ বছর বয়সী শিশু পাঁচজন। বাকিদের মধ্যে ১২ জনের বয়স ২৬-৩০ বছর ও আটজনের বয়স ১৬-২০ বছরের মধ্যে। ৫১-৬০ বছর ঊর্ধ্ব বয়সী রোগীর সংখ্যা ছয়জন।
এ মাসে এখন পর্যন্ত মারা গেছে সাতজন, যা গত মাসের চেয়ে পাঁচজন কম। গত মাসে মৃত্যু ছিল ১২ জনের। এ বছর মারা গেছে ৪৩ জন। সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল জানুয়ারিতে ১৪ জনের। এ ছাড়া মার্চে পাঁচজন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন ও এপ্রিলে দুজন মারা গেছে।
এ বছর এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৬০৭ ডেঙ্গু রোগী। এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৫৪ রোগীর রেকর্ড হয়েছে এ মাসে। সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি হয়েছে জানুয়ারিতে ১ হাজার ৫৫ জন। এরপর মে মাসে ৬৪৪ জন, এপ্রিলে ৫০৪, ফেব্রুয়ারিতে ৩৩৯ ও মার্চে ৩১১ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এ বছর ডেঙ্গুতে পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হলেও মৃত্যু বেশি নারীদের। মোট রোগীর ৬১ শতাংশ বা ২ হাজার ১৯১ জন পুরুষ ও ৩৯ শতাংশ বা ১ হাজার ৪১৬ জন নারী। কিন্তু মোট মৃত্যুর ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ বা ২৩ জন নারী ও ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ বা ২০ জন পুরুষ।