ফাঁসির সেলে শরীফার ২৪ বছর

দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন প্রধান বিচারপতির নজরে, দ্রুত শুনানির উদ্যোগ

হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা নিয়ে প্রায় ২৪ বছর ফাঁসির সেলে (কনডেম সেল) থাকা শরীফা বেগমকে নিয়ে আজ দৈনিক দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত প্রধান প্রতিবেদনটি প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নজরে এসেছে। শরীফার আপিল দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। 

সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেজিষ্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘প্রতিবেদনটি মাননীয় প্রধান বিচারপতির নজরে এসেছে। তিনি আপিল মামলাটি দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিয়েছেন‌। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে শুনানি হবে।’

আজ সোমবার দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘ফাঁসির দিন গুনে এক নারীর ২৪ বছর’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, ২৬ বছর আগে হত্যা মামলায় শরীফা বেগম কারাগারে যান। ৫৫ বছরের জীবনের প্রায় ২৪ বছরই ‘মৃত্যু সেলে’ থাকা শরীফার মামলার বিচারই এখনো শেষ হয়নি। 

১৯৯৮-এ গ্রেপ্তারের পর ২০০০ সালের অক্টোবরে বিচারিক আদালতে তার ফাঁসির রায় হয়। সেই থেকে তিনি ফাঁসির সেলে (কনডেম সেল) বন্দি। ২০০৩ সালে হাইকোর্টে তার সাজা বহাল থাকে। এরপর ২১ বছরেও তার আপিল নিষ্পত্তির তথ্য মেলেনি। এই দীর্ঘ সময় ফাঁসির সেলে থাকা শরীফার কথা আদালত, কারা কর্তৃপক্ষ, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় কারও মনে আসেনি। এই নারী জানতে পারেননি তিনি দোষী না নির্দোষ।

কারা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কারা ইতিহাসে আর কোনো নারী আসামিকে এত দীর্ঘ সময় ফাঁসির সেলে থাকতে হয়নি। এত লম্বা সময় (২৬ বছর) কোনো নারী কারাবাসে ছিলেন কি না, সে তথ্যও মেলেনি। শরীফার মতো জামালপুরের আবদুস সামাদ আজাদ ওরফে সামাদও একই মামলায় গত ২৪ বছর ধরে ফাঁসির সেলে বন্দি। কারা ইতিহাসে তিনিই সম্ভবত একমাত্র পুরুষ আসামি যাকে এত দীর্ঘ সময় ফাঁসির সেলে থাকতে হচ্ছে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ থেকে শরীফা আছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের ফাঁসির সেলে। এর আগে ছিলেন পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (এখন কেরানীগঞ্জে)। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহবাজপুর গ্রামে। দীর্ঘদিন জেলে থাকায় স্বামী মো. ওবায়দুল্লাহ (৬০) অনেক আগেই অন্যত্র বিয়ে করেছেন। তিনি কোনো খোঁজ নেন না। ছেলে অরিদ মিয়া (৩৫) স্থানীয় একটি বাস পরিবহনে চালকের সহকারীর কাজ করেন। আর্থিক অসংগতি ও মুক্তির সম্ভাবনা নেই মনে করে শরীফার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ কমে গেছে। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গিয়ে শরীফার ছেলে, মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, তাদের মাকে এ মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। মায়ের বিষয়টি তারা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।