কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার পানকরা হাফেজা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার বরখাস্ত হওয়ার পরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানের একই পদে দায়িত্ব পালন করার অভিযোগ উঠেছে। দরখাস্তাকৃত ওই শিক্ষিকাকে অপসারণের দাবিতে গণস্বাক্ষর দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলা জোড্ডা পূর্ব ইউপির টনিভাঙ্গা গ্রামের মীর মোহাম্মদ মোহতাছিম বিল্লাহ স্ত্রী তাহমিনা আক্তার। মোহতাছিম বিল্লাহও পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।
তাহমিনা আক্তার শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ছাড়াই পানকরা হাফেজা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৯৬ সালে সরাসরি প্রধান শিক্ষিকার পদে যোগদান করেন। শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে কমপক্ষে ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ছাড়া কেউ প্রধান শিক্ষক হতে পারবেন না। অভিযোগ রয়েছে ওই সময় ছিল না তার বিএ-বিএড সার্টিফিকেটও। ২০০৯ সালে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ ও যোগদানের সময় বিএ-বিএড সার্টিফিকেট না থাকায় বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমানুল্লাহ রেজুলেশনের মাধ্যমে সেই বছরের ৫ জুন তাহমিনা আক্তারকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে সাময়িক দরখাস্ত করেন। সেই সঙ্গে সহকারী শিক্ষক আহসানুল্লাহকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষক আহসানুল্লাহ এ বিদ্যালয় থেকে অন্য একটি বিদ্যালয়ে চলে যাওয়ায় ২০১০ সালে আরেক সহকারী শিক্ষক মোনাব্বের হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরই ফাঁকে তাহমিনা আক্তার তার স্বামীর সহযোগিতায় পার্শ্ববর্তী রাজাপাড়া গ্রামের মহি উদ্দিনকে সভাপতি করে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। তৎকালীন নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে ম্যানেজ করে জোরপূর্বক দায়িত্ব গ্রহণ করে কমিটি। পরে করোনাকালে ছাত্র-ছাত্রীদের ফরম ফিলাপের টাকা সরকারিভাবে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি টাকা ফেরত দেননি। চলতি বছরের ৬ জুন প্রধান শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তারকে তার দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবিতে গণস্বাক্ষর দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত বের করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার বলেন, আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করার চার দিনের মধ্যে আদালতে মামলা করি। পরবর্তীতে আদালত থেকে স্টে অর্ডার এনে ব্যাংকে জমা দিয়ে শিক্ষকদের বেতন ভাতা উত্তোলন করি। আমার শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার কোনো সার্টিফিকেট ছিল না। সরাসরি পানকরা হাফেজা জুনিয়ার উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকার পদে যোগদান করি। পরবর্তীতে বিএ বিএড করি। আমি কোনও অনিয়ম-দুর্নীতি করিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন বলেন, এটা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আদালতে যে রায় দেবেন আমরা তাই মেনে নেব।
বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি অধ্যক্ষ আবু ইউছুফ বলেন, সাময়িক বরখাস্তের পর আদালত থেকে স্টে অর্ডার নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার সঙ্গে শিক্ষক মোনাব্বের হোসেনের বিরোধ চলছে। আমরা বিষয়টির মীমাংসার চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া আক্তার লাকি বলেন, প্রধান শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের আলোকে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।