২০২৪-২৫ অর্থবছরে মেট্রো রেলের টিকিটের দাম বাড়ার কথা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ করবে। তবে আজ সোমবার পর্যন্ত বাড়েনি মেট্রোরেলে ভাড়া। ভাড়া বাড়লে যাত্রীর ভাটা পড়বে বলে শঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যত দিন যাচ্ছে মেট্রোরেলে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। মূলত মতিঝিল থেকে উত্তরা পর্যন্ত চালু হওয়ার পর এসব এলাকার অফিসগামী যাত্রীরা মেট্রো দিয়েই যাওয়া আসা করেন। নতুন করে মেট্রোরেলের ভাড়া বৃদ্ধি হলে বেশিরভাগ যাত্রী বিষয়টি নেতিবাচক হিসেবে দেখবেন বলে ধারণা অনেকের। নতুন অর্থবছরে মেট্রোরেলের টিকিটে ভ্যাট আরোপ করা হলেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তিন ফুটের কম উচ্চতার শিশুরা বিনামূল্যে মেট্রোরেলে চলাচল করতে পারবে।
মিরপুর ১০ থেকে মো. আসাদ মেট্রোরেলে চড়ে সচিবালয় স্টেশনে যাওয়া-আসা করেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেট্রোরেল দিয়ে মিরপুর থেকে সচিবালয় স্টেশনে যেতে ৬০ টাকা লাগে। আর বাস দিয়ে যেতে ৩০ টাকার মতো নেয়। এখন যদি ভাড়া আরো বেড়ে যায় তাহলে আর মেট্রোরেল দিয়ে যাতায়াত করব না।
মেট্রোরেলে চলাচল করা আরেক যাত্রী বিশ্বজিৎ বলেন, মেট্রোরেল আমাদের যানজটের শহরে আরামাদায়ক পরিবহন সেবা হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। এখন যদি মেট্রোরেলে ভাড়া বেড়ে যায় তাহলে আমার মতো সাধারণ যাত্রীরা বিমুখ হয়ে যাবে। তাই সরকারের উচিত মেট্রোরেলের জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে ভ্যাট আরোপ প্রত্যাহার করা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেট্রোরেলে এত দিন ভ্যাট ছাড় দিয়েছিল এনবিআর। এখন তারা নতুন করে ভ্যাট আরোপ করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে মেট্রোরেল মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কিন্তু মেট্রোরেলের ভাড়া যদি বেড়ে যায় তাহলে আগের থেকে যাত্রী সঙ্কটে পড়বে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখনো মেট্রোরেলে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। মন্ত্রণালয় পর্যায়ে একটি সিদ্ধান্ত হবে। সেটি হলে ভাড়ার বিষয়ে জানানো হবে বলে তিনি জানান।