আবারও কর্মবিরতিতে পল্লী বিদ্যুতের কর্তা-কর্মচারীরা

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও এর অধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো একীভূত করে অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন এবং সয চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিত করার দাবিতে ফের কর্মবিরতিতে নেমেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪০ হাজার কর্মী।

অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন গ্রাহকরা। যদিও আন্দোলনকারীরা বলছেন, বিশেষ ব্যবস্থায় জরুরি বিদ্যুৎসেবা চালু রেখেই কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।

নিজেদের ন্যায্য দাবি জানিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আরইবিকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও সমিতির নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকা আরইবি কোনো সমাধান না করে উল্টো দমন, নিপীড়ন, শোষণের অংশ হিসেবে সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তসহ নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, আরইবির নানা বৈষম্য এবং দমন-নিপীড়নের কারণে সমিতির কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় গত ৫ মে থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব (রুটিন দায়িত্ব) এবং মন্ত্রণালয় ও আরইবির কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে গত ১০ মে বৈঠক করেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সমস্যা সমাধানে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আলোচনায় বসবে বিদ্যুৎ বিভাগের এমন আশ^াসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

তারা জানান, পরবর্তীকালে বিদ্যুৎ বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী, দাবি-দাওয়া উল্লেখ করে সারা দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩৭ হাজার ৫৪২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি বিদ্যুৎ বিভাগসহ আরইবিতে জমা দেওয়া হয়। যেখানে বোর্ডের প্রতি অনাস্থা জানান সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বেঁধে দেওয়া ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সমিতির যেসব কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড, সংযুক্ত ও স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে, তাদের সবাইকে এক সপ্তাহের মধ্য অব্যাহতি দেওয়ার কথা থাকলেও সাসপেন্ড দুজন ও স্ট্যান্ড রিলিজ দুজনকে এখনো অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। তাই আবারও বাধ্য হয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নিপীড়ন ও শোষণ থেকে বাঁচতে পুনরায় কর্মবিরতিতে যেতে হলো।

মূল প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী কর্মকর্তা, চাকরির যোগ্যতা এক হওয়া সত্ত্বেও আরইবির সঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক বৈষম্য। আরইবির কিছু কর্মকর্তা নিজেদের সুবিধার জন্য বছরের পর বছর ধরে এ বৈষম্য জিইয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

সমিতির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, গত বছর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা ভাতা ওই বছরের জুলাই থেকে কার্যকর করার নির্দেশনা আরইবি নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করেছে। অথচ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে তা আরও ছয় মাস পর কার্যকর করা হয়। একইভাবে ২০১৫ সালের নতুন জাতীয় বেতন স্কেলও কার্যকর করা হয় ছয় মাস পর। মাত্র তিন বছরে আরইবির নির্বাহী পরিচালক বা সমমান পদের একজন পরবর্তী ধাপে পদোন্নতি পেয়ে যান। আর একই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক থেকে মহাব্যবস্থাপক পদ পেতে অপেক্ষা করতে হয় ১২ থেকে ১৪ বছর। এভাবে অন্যান্য পদে পদোন্নতি পেয়ে সময় লাগে অনেক বেশি।

মাঠপর্যায়ে তেমন একটা কাজ না করেও পর্যায়ক্রমে আরইবির কর্মকর্তারা সবাই বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলেও যারা মূল কাজ করেন সেই সমিতির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কর্মকর্তাকে বিদেশে প্রশিক্ষণ পান। এ ছাড়া আরইবি এবং অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার কর্মীদের সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন হলেও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে এই ছুটি একদিন।

এমন নানা বৈষম্যের পাশাপাশি বার্ষিক বেতন প্রবৃদ্ধি, চিকিৎসা ভাতা, প্রশিক্ষণ সম্মানী, অবসরকালীন সুবিধাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন।