আমার কোনো অভিযোগ নেই: মেহজাবীন

একটা সময় ঈদ মানেই ছিল মেহজাবীন চৌধুরীর নাটক। তবে গেল কয়েক বছরে ছোট পর্দায় তাকে সেভাবে পাওয়া যায় না। প্রায় সাত মাস পর ঈদে প্রচার হয়েছে ভিকি জাহেদ পরিচালিত তার নতুন নাটক ‘তিথিডোর’। নাটক, সিনেমা ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জনপ্রিয় এই তারকার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর।

সর্বশেষ আপনাকে ‘তিথিডোর’ নাটকে পাওয়া গেছে, তাও প্রায় সাত মাস পর। কাজটি করতে গিয়ে নতুন কী কী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং কাজটির ফিডব্যাক কতটুকু প্রত্যাশা পূরণ করেছে? 

 হ্যাঁ, ‘অনন্যা’র পর প্রায় অনেক মাস পর কাজটি করা হয়। মনের মতো গল্প, চরিত্র পাচ্ছিলাম না। তাছাড়া আমারও খুব একটা ইচ্ছে ছিল না। মনে হচ্ছিল একজন শিল্পী হিসেবে এমন কাজই করা উচিত যেগুলো দর্শকের ওপর প্রভাব ফেলবে। খেয়াল করে দেখলাম মানসিক অবসাদ, আত্মহত্যা প্রবণতা নিয়ে আমাদের এখানে খুব কমই কাজ হয়। যারা এসব রোগে ভুগছেন তাদের অনুপ্রেরণা জোগাতে এ রকম একটা কাজ করা যেতে পারে, এ রকম একটা ভাবনা মাথায় ঘুরছিল। এরপরই ‘তিথিডোর’ কাজটি নিয়ে ভিকি জাহেদের সঙ্গে কথা হয়। ঈদে দর্শকরা রোমান্টিক, কমেডি ঘরানার কাজ দেখতেই পছন্দ করেন, সেই জায়গা থেকে যদি এই কাজটি করতে পারি তাহলে একটু ভিন্ন কিছু হবে এবং দর্শকের মনে একটা আলাদা জায়গা করে নিতে পারবে—সেই ভাবনা থেকেই ‘তিথিডোর’ করা। 

প্রত্যাশা নিয়ে যদি বলি, এরকম ভারী গল্পের কাজ দর্শকরা অন্তত ঈদে দেখতে চান না। তারপরেও অনেক মানুষ কাজটি দেখছেন, তাদের ফিডব্যাক জানাচ্ছেন, অনুভূতি শেয়ার করছেন এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবনের গল্প শেয়ার করছেন যেটা অনেক বড় পাওয়া। সচরাচর মানুষ কখনোই নিজেদের ভেঙে পড়ার কিংবা ডিপ্রেশনের গল্প কারও সঙ্গে শেয়ার করতে চান না কিন্তু এই কাজটি দেখার পর তারা তাদের নিজেদের গল্পগুলো মেসেজ কিংবা ফেসবুক পোস্ট, কমেন্টের মাধ্যমে শেয়ার করছেন। একটা কাজের মধ্য দিয়ে কারও ব্যক্তিগত জীবনের অংশ হতে পারাটা অবশ্যই আমাদের পুরো টিমের জন্য অনেক বড় পাওয়া।

Mehazabien Chowdhury Desh Rupantor

এখন আপনি ওটিটি, সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত। একটা সময় মাসের ত্রিশ দিনই শুটিং করতেন, এখন কালেভদ্রে শুটিং করেন। কেমন অনুভব হয়? 

ঠিক। কিন্তু কাজ কম করা মানেই যে আমি অবসর সময় কাটাচ্ছি এমন না। আগে যখন ছোট ছিলাম তখন মনে হতো, শুধু অভিনয়টাই আমার অংশ কিংবা কাজ; যে কারণে তখন শুধু অভিনয় নিয়েই ভাবতাম। কিন্তু এখন যে কাজগুলোই করি সেগুলোর একদম প্রি-প্রোডাকশন থেকে শুরু করে পোস্ট প্রোডাকশন পর্যন্ত নিজে যুক্ত থাকার চেষ্টা করি। গল্প লেখা, পাণ্ডুলিপি তৈরি, কস্টিউম, আর্ট ডিজাইন, এডিটিং সবকিছুর মধ্যে নিজের উপস্থিতি রাখার চেষ্টা করছি। এতে করে দুটো জিনিস হয়। একজন শিল্পী যখন এই বিষয়গুলোতে অংশ নেন তখন টিমের অন্যরাও বেশি অনুপ্রাণিত হয় এবং শতভাগ এফোর্ট দেয়। আরেকটা হচ্ছে, ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজের অনেক কিছু শেখা হয়। আর্ট ডিরেকশন বুঝতে পারি, মেকআপ কী হতে পারে সেটা নিয়ে ভাবতে পারি, স্ক্রিপ্ট রাইটিং, স্ক্রিনপ্লে, এডিটিংয়ে সময় দিতে পারি। কোনো প্রজেক্ট অন এয়ার হওয়ার আগে যদি কোনো কারেকশন দেওয়া যায় তাতে ওই প্রজেক্টেরই লাভ, সাকসেস রেট বেড়ে যায়। তাই আমি মনে করি প্রত্যেকটা শিল্পীরই এডিটিংয়ে যুক্ত থাকা উচিত। আর এখন আমি সে কাজটাই করি, প্রজেক্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সময় দিই।

ক্যারিয়ারের ১৪ বছর পার করলেন। এই সময়টাতে এসে নিজেকে নিয়ে মনের মধ্যে কোন ভাবনাটা কাজ করে বেশি? 

লাক্স থেকে বের হয়েছিলাম ২০১০ সালে, সেদিক থেকে চৌদ্দ বছর হয়ে গেছে বলা যায়। কিন্তু অভিনয় নিয়ে মনোযোগী হই ২০১৬ সালের পর থেকে। কারণ এর আগে অভিনয়টাকে সিরিয়াসলি নিইনি এবং বুঝতাম না যে কোন ধরনের কাজ করা উচিত আমার। এরপর বেছে বেছে ভালো কাজ করার চেষ্টা করতে থাকি। খুব মনোযোগী হয়ে কাজ করছি ২০১৭ থেকে। সেক্ষেত্রে ক্যারিয়ারের বয়স খুব বেশি না, বলতে পারেন সাত বছর। 

এখন মাঝেমাঝেই মনে হয় যে, আরও আগে কেন কাজে মনোযোগী হলাম না, পূর্ণ ডেডিকেশনের সিদ্ধান্ত নিলাম না। তবে যখন থেকেই সিরিয়াস হয়েছি তৎক্ষণাৎই সেটার রেজাল্ট পেয়েছি। দর্শকের ভালোবাসা, জনপ্রিয়তা সবকিছুই অনেক বেড়ে যায়। এই মুহূর্তটাতে এসে শুধু এটাই মনে হয় যে, আমার যতটুকু চাওয়া ছিল তার চেয়েও অনেক অনেক গুণ বেশি ভালোবাসা পেয়েছি।

Mehazabien Chowdhury

খ্যাতির বিড়ম্বনা বলে একটা কথা আছে। তারকা হওয়ার পরে আপনাকে কখনো বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছিল কি? 

এটার ইতিবাচক, নেতিবাচক দুটোই রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ব্যক্তিগত জীবনেও কিছুটা প্রভাব ফেলে। তবে আমি যা চেয়েছিলাম তাই পেয়েছি তাই আমার কোনো অভিযোগ নেই। বরং একজন অভিনয়শিল্পী কিংবা পাবলিক ফিগার হওয়াতে আমার লাইফটা গুছিয়ে ফেলতে পেরেছি। কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ভাবা, কোনো কথা বলার আগে সেটা নিয়ে ভাবা—এই প্রফেশনটা আমাকে ম্যাচিউরড পারসন হিসেবে তৈরি করেছে। পাবলিক ফিগার হিসেবে প্রত্যেকটা বিষয় নিয়েই আমি খুব গভীরভাবে ভাবার চেষ্টা করি। আমি একেবারেই গোছানো সেটা বলব না, অনেকটা গোছানো আর সেটা সম্ভব হয়েছে আমার এই প্রফেশনের কারণেই। অন্য কোনো পেশায় থাকলে  হয়তো এতটা গুছানো জীবন কাটাতে পারতাম না, ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম না। হয়তো অমনোযোগী থাকতাম বা অনেক ভুলভাল করে ফেলতাম।

নিজেকে কখনো একা মনে হয় বা একাকিত্ব অনুভব করেন? 

দিনশেষে সবাই একা। কাজ শেষ করে যখন রাতে ঘুমাতে যাই তখন স্বভাবতই আমরা একা। যখন একা থাকি তখন নিজেকে নিয়ে, নিজের জীবন নিয়ে ভাবি। আমার বন্ধু-বান্ধব অনেক কম, অল্প কয়েকজন। আমার অনেক বড় সার্কেল নেই। তবে যারাই আছেন তারা বিশ্বস্ত এবং আমার শুভাকাক্সক্ষী। জীবনে কম মানুষ থাকুক কিন্তু সলিড মানুষ থাকুক। এটাই বেশি জরুরি। আমি অনেক ভাগ্যবতী যে কম হলেও আমার জীবনে কিছু সলিড মানুষ পেয়েছি যারা যেকোনো সিচুয়েশনে আমার পাশে ছিল এবং জানি ভবিষ্যতেও থাকবে।  

শাকিব খান এবং আফরান নিশোর সঙ্গে দুই সিনেমা নিয়ে কথা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। এই বিষয়ে একটু জানতে চাই...

একদম গুজব। এ রকম কোনো কথা হচ্ছে না। যখন কোনো কাজ হবে তখন সেটা প্রোডাকশন হাউজ কিংবা আমাদের পক্ষ থেকেই ঘোষণা আসবে।