গ্রুপ ‘ডি’র দুটো ম্যাচ দিয়ে বুধবার সকালে শেষ হবে কোপা আমেরিকায় গ্রুপ পর্বের খেলা। লাতিন ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের আসরটিতে ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া অনেকখানি নিশ্চিত হলেও রয়ে গেছে কিছু যদি-কিন্তুর হিসাব। একটি করে জয় ও ড্র থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে ব্রাজিলের অবস্থান দুইয়ে। তাদের শেষ ম্যাচ দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এক নম্বরে থাকা কলম্বিয়ার বিপক্ষে। গোল ব্যবধানে অনেকটা এগিয়ে থাকায় কোয়ার্টারে ওঠার সমীকরণে সেলেসাওরা বেশ ভাল অবস্থানে রয়েছে। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় হয়ে কোয়ার্টারে যাওয়ার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।
ধীরগতির শুরুতে কোস্টারিকার সঙ্গে ড্র করার পর ব্রাজিল তাদের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-৪ গোলে হারিয়েছে। তবে এই দুই দলকেই হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থাকা কলম্বিয়া ব্রাজিল থেকে এগিয়ে আছে দুই পয়েন্টে। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল দ্বিতীয় হয়ে গেলে খেলতে হবে আসরের সবচেয়ে ফর্মে থাকা এবং ৮ গোল করা দল উরুগুয়ের বিপক্ষে। আর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পৌঁছালে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল পানামাকে।
কোয়ার্টারের সমীকরণ কী দাঁড়াবে তা নির্ধারিত হবে বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারার লেভিস স্টেডিয়ামে সকাল ৭টার ব্রাজিল-কলম্বিয়া ম্যাচের ফলাফলের ভিত্তিতে। আর এ ম্যাচটি হতে যাচ্ছে কোপার গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের জন্য এ পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কলম্বিয়া এখনো পর্যন্ত কোনো ম্যাচে হার দেখেনি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে এই কলম্বিয়ার কাছে হার মানতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। শেষ দশ ম্যাচে টানা জয় পাওয়া দল লাতিন আমেরিকার কলম্বিয়া। কোচ হিসেবে দরিভাল জুনিয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্রাজিল প্রাণশক্তি ফিরে পেলেও পরিসংখ্যান তাদের পক্ষে কথা বলছে না। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের চারটি ম্যাচে জয়বঞ্চিত থাকতে হয়েছে তাদের। কোপার শুরুর ম্যাচেও কোস্টারিকা বাধা পেরোতে পারেনি ব্রাজিল। কালকের ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য যে কোনো ফল কোয়ার্টার ফাইনালের পথটা অনেক অমসৃণ করে তুলবে ব্রাজিলের জন্য।
শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিল জয় পেলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ডি-এর শীর্ষে থেকে পরের পর্বে যাবে। ম্যাচটি যদি ড্র হয় তাহলে কলম্বিয়ার ৭ পয়েন্টের বিপরীতে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিল দ্বিতীয় দল হিসেবে কোয়ার্টারে উরুগুয়ে অগ্নি পরীক্ষার মুখোমুখি হবে। কলম্বিয়ার কাছে হেরে গেলেও কোয়ার্টারে যাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে সেলেসাওরা। কেননা তিনে থাকা কোস্টারিকার জন্য ব্রাজিলকে টপকানো কাগজে-কলমে সম্ভব হলেও বাস্তবে অনেকটাই কঠিন। ব্রাজিলের গোল ব্যবধান যেখানে +৩, সেখানে কোস্টারিকার -৩।
ব্রাজিল কলম্বিয়ার কাছে ৩ গোলের ব্যবধানে হারলে ও কোস্টারিকা প্যারাগুয়েকে ৩ গোলের বেশি ব্যবধানে হারালে গোল পার্থক্যে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলবে কোস্টারিকা। দুই দলের গোল পার্থক্যও সমান হয়ে গেলে দেখা হবে গ্রুপ কারা বেশি গোল করেছে। সেটিও সমান হয়ে গেলে আসবে মুখোমুখি লড়াইয়ে হিসাব। যেহেতু ব্রাজিল-কোস্টারিকা ড্র করেছে, তাই এরপর দেখা হবে কারা কম লাল কার্ড দেখেছে। সেটিতেও সমতা থাকলে আসবে হলুদ কার্ডের হিসাব। এরপরও যদি দুই দলকে আলাদা করা না যায়, তবে টসে ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে।
পয়েন্ট তালিকা গ্রুপ ‘ডি’
দল ম্যাচ জয় ড্র হার গোল পয়েন্ট
কলম্বিয়া ২ ২ ০ ০ ৫/১ ৬
ব্রাজিল ২ ১ ১ ০ ৪/১ ৪
কোস্টারিকা ২ ০ ১ ১ ০/৩ ১
প্যারাগুয়ে ২ ০ ০ ২ ২/৬ ০
কি বলছেন দুই কোচ
এমনিতে অন্য যে কোনো সময় কলম্বিয়া বা যে কোনো দলের বিপক্ষে পরিষ্কার ফেভারিট বলে দেওয়া যেত ব্রাজিলকে। কিন্তু গত নভেম্বর থেকে চেনা ছন্দে নেই পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এই সময়ে ৮ ম্যাচে তাদের জয় ৩টি, ড্র হয়েছে আরও ৩ ম্যাচ। কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরেই গেছে তারা। হামেশ রদ্রিগেস, লুইস দিয়াসদের সামর্থ্য সম্পর্কে সচেতন ব্রাজিল কোচ। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দরিভাল জুনিয়র জানালেন, সম্ভাব্য সুযোগগুলো কাজে লাগাতে চান তারা।
“আমি মনে করি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই কলম্বিয়ান ফুটবলারদের সেরা প্রজন্ম। বিশ্বের বড় বড় দলে খেলা ফুটবলার আছে তাদের। বেশ কয়েকজন আমাদের দেশেও (ব্রাজিল) খেলে।” তাই তিনি বলেন, '“কোনো সন্দেহ নেই, আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচ হবে। হয়তো তেমন উন্মুক্ত খেলা হবে না। কারণ রক্ষণের দিকে বেশি নজর থাকবে দুই দলের। তবে আমি মনে করি, ভালো সুযোগ আসতে পারে ম্যাচে। আশা করি, এর সেরাটা আমরা নিতে পারব।”
অন্যদিকে ব্রাজিলের সমৃদ্ধ ইতিহাসের কথা মাথায় রেখে নিজেদের ফেভারিট মানতে নারাজ কলম্বিয়া কোচ নেস্তর লরেন্সো। দ্বিতীয় কোনো ভাবনা না রেখে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ফেভারিট মেনে নিয়েছেন তিনি, 'ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা হলে আপনি কখনও ফেভারিট নন। তারা অনেক ইতিহাসসমৃদ্ধ দল। আমরা সবে কলম্বিয়ার ইতিহাসের কয়েকটি পাতা লেখা শুরু করেছি। যেটা কিছু সময়ে খুব ভালো হয়েছে।'
গত বছরের নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে অবশ্য ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল কলম্বিয়া। সব মিলিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে সবশেষ ৬ ম্যাচে মাত্র দুটিতে হেরেছে তারা। এছাড়া দারুণ ছন্দে থাকা হামেস রদ্রিগেস, লুইস দিয়াসরা সবশেষ ২৫ ম্যাচের একটিতেও হারেননি।
এই অজেয় যাত্রা আরও বহু দূর নিয়ে যেতে চান লরেন্সো। ইতিহাসের খাতায় নতুন পাতা যোগ করে আরও সামনে এগোনোর প্রত্যয় কলম্বিয়া কোচের। 'আমরা আরও বেশি (ইতিহাস লেখার) আশা করি। এই ধারা ধরে রাখতে নিজেদের সেরাটা দেব আমরা। কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার চেয়ে আমাদের অগ্রাধিকার পাবে গ্রুপের শীর্ষ দল হওয়া। তাই সেরাটা দিয়েই খেলবে দল।'
ছন্দে থাকা উরুগুয়েকে এড়াতে ‘ডি’ গ্রুপ শ্রেষ্ঠত্বের দিকেই নজর থাকার কথা ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার। সে কারণেই হয়তো কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় থাকা এদের মিলিতাও, ভিনিসিউস জুনিয়র, লুকাস পাকেতাদের বিশ্রাম দেওয়ার কথা ভাবনা নেই ব্রাজিল কোচের।