গতানুগতিকতার বাইরে বস্তুনিষ্ঠ আলাদা সংবাদপত্রই লক্ষ্য: মোস্তফা মামুন

‘ভারমুক্ত হওয়ায় আগের থেকে দায়িত্ব বেড়েছে। আমরা অমিত হাবিবের টিম নিয়ে আগে থেকেই ভালো কাজ করে এসেছি। এই ভালো কাজের জন্য পুরস্কার পেয়েছি। আর এই পুরস্কার শুধুমাত্র আমার একার অর্জন নয়। দেশ রূপান্তরের প্রতিটি কর্মীও এই পুরস্কারের অংশীজন। সবাই মিলেই, ‘আমরা করবো জয়’’। 

মঙ্গলবার (০২ জুলাই) বিকেলে দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম দিনে সম্পাদক মোস্তফা মামুনের সহকর্মীরা তাকে অভিনবভাবে বরণ করেছে। সবারই দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ভারমুক্ত হোক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। ভারমুক্ত হওয়ায় কর্মীরা আনন্দের বহিঃপ্রকাশ থেকে আয়োজন করে ‘আমাদের সম্পাদক, আমাদের উৎসব’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে নিজের চমকে যাওয়ার কথা স্বীকার করে এসব কথা বলেন দেশ রূপান্তর সম্পাদক মোস্তফা মামুন।

যদিও তিনি এতদিন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে তিনি দেশ রূপান্তরের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। মোস্তফা মামুন বলেন, ‘দেশ রূপান্তর কর্র্তৃপক্ষ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে। তাই তাদেরও ধন্যবাদ। এখন আমরা তাদের আস্থা টিকিয়ে রাখতে আরো কাজ করে যাবো।’

দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অমিত হাবিবকে স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক পত্রিকাটিকে যে জায়গায় দেখতে চেয়েছিল আমরা সবাই মিলে কাজ করে পত্রিকাটিকে সে জায়গায় পৌঁছে নিয়ে যাবো।’

কর্মীদের আয়োজন ‘আমাদের সম্পাদক, আমাদের উৎসব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে কেক কাটছেন দেশ রূপান্তর সম্পাদক

এদিকে অনুষ্ঠানে দেশ রূপান্তরের সম্পাদককে নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র তুলে ধরা হয়, যা নির্মাণ করে দেশ রূপান্তরের ডিজিটাল বিভাগ। সহকর্মীদের নিয়ে আয়োজনে ‘আমরা করবো জয়’ গানের সাথে কেক কাটেন সম্পাদক; এ সময় ভিডিওকলে উপস্থিত ছিলেন রূপায়ণ গ্রুপের কো চেয়ারম্যান ও দেশ রূপান্তরের প্রকাশক মাহির আলী খান রাতুল এবং রূপায়ণ গ্রুপের উপদেষ্টা আব্দুল গাফফার।

সাহিত্য সম্পাদক শিমুল সালাহ্উদ্দিনের উপস্থাপনায় সম্পাদকের কাছে নানা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রায় সব বিভাগের কর্মীরা। তারা সকলেই নতুন যাত্রায় সম্পাদক মোস্তফা মামুনকে শুভেচ্ছা জানান।

১০০টির বেশি প্রকাশিত গল্প-উপন্যাসের লেখক, কথাসাহিত্যিক মোস্তফা মামুনের জন্ম মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান। তিনি সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৯১ সালে এসএসসি ও কুমিল্লা ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে নিয়েছেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। এরপর মোস্তফা মামুনের হওয়ার কথা ছিল আইনজীবী, কিন্তু হয়েছেন সাংবাদিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই, ১৯৯৫ সালে যুক্ত হন দৈনিক ভোরের কাগজে। সেখান থেকে ১৯৯৮ সালে যোগ দেন প্রথম আলোয়। সেখান থেকে ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে ২০০৪ সালে যোগ দেন দৈনিক যায়যায়দিনে। এরপর দুই বছর ছিলেন বিডিনিউজ২৪.কমে। ২০০৯ সাল থেকে কালের কণ্ঠেও ছিলেন ক্রীড়া সম্পাদক। ২০১৪ সালে পদোন্নতি পেয়ে হন উপসম্পাদক। ২০২২ সালে তিনি নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন দেশ রূপান্তরে। সম্পাদক হিসেবে তার নেতৃত্বে দেশ রূপান্তরের দৃশ্যমান উন্নতি পাঠকের চোখে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন জাতীয় দৈনিকটির সাংবাদিকেরা।